‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব ধরনের পেট্রলপাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঘনঘন হিসাব নেয়া, পুলিশ নিয়োগ ও ছয়টি পাম্পে বড় অংকের জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদে তারা তেল বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পেট্রলপাম্প মালিকদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের সিএনজি ও এলপিজিসহ কোনো পাম্পই মালিকদের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের প্রতিনিধিরা চাইলে পাম্প চালাতে পারেন, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মূলত প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জরিমানাকে ‘হয়রানি’ হিসেবেই দেখছেন মালিকরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে গতকাল সন্ধ্যা থেকে কয়েকজন মালিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এরপরই রাতেই বৈঠক করে পেট্রলপাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
গতকাল দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিলেট জেলা প্রশাসন ও র্যাব যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে এঅ্যান্ডএ অ্যাসোসিয়েটস সিলেট পেট্রলিয়াম স্টেশনে সরকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত পেট্রল মজুদ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই পাম্পের মালিক মো. কামরানকে পেট্রলিয়াম আইনে তাৎক্ষনিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা আদায় করেন সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট এর ডাক দিয়েছে পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠন।