শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও পন্টুন এলাকা জবরদখল করে রাখা অটোরিকশাওয়ালাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার (১১ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা ফেরিঘাটে গিয়ে লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদ করেন।
তারা অতিরিক্ত টাকায় ফেরির টিকিট বিক্রি করার অভিযোগ করেন এবং ফেরিঘাটের পন্টুন এলাকা অটোরিকশার দখলে থাকার কারণে ফেরি থেকে যানবাহন উঠা-নামায় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসময় সেখানে উপজেলার দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর একটা টিম পৌঁছায়। তাদের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশা উচ্ছেদ করা হয়।
দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ-এর ট্রাফিক সাব ইন্সপেক্টর শিমুল ইসলাম জানান, তারাও দীর্ঘদিন ধরে এব্যাপারে কথা বলেছেন। কিন্তু কার্যকর হয়নি। এবার ফলপ্রসু হয়েছে।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ওপাড়ে পাটুরিয়া ঘাট। পদ্মাসেতু চালু হবার পর এ ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপার কিছুটা কমে গেলেও ফেরি সার্ভিস যথারীতি চালু রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজারের বেশি যানবাহন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চলের পথে চলাচল করে।
ঘাট ছাড়িয়ে পন্টুন এলাকা জুড়ে অটোরিকশার জবরদখলে সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছিল এই ফেরিঘাটে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা এসে ঘাটে ভিড় করছিল। এই ব্যাটারি চালিত যানগুলোর লক্ষ্য ফেরি থেকে নামা সাধারণ যাত্রী। এগুলো এমনকি ঝুঁকি নিয়ে পন্টুন ব্রিজেও ঢুকে সারি বেধে দাঁড়িয়ে থাকছিল। ফলে ফেরি থেকে বড় যানবাহন নামাতে প্রচুর ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। ঘটছিল দুর্ঘটনাও। ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডে লাগছিল বাড়তি সময়।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ৭টি ফেরিঘাট রয়েছে, যেখানে জাহাজ রয়েছে ২১টি। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর এই ঘাটে যানবাহনের পরিমাণ বাড়া-কমার কারণে বর্তমানে তিনটি ঘাট চালু রয়েছে। সেখানে ছোটবড় ৯/১০টি জাহাজ নিয়মিত যানবাহন পারাপার করছে।
নিয়মিত এ ঘাটে চলাচল করেন এমন অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি ঘাটেই অটোরিকশার দৌরাত্ম্য চলে আসছিল। অথচ ফেরিঘাটের পন্টুনে কোনো ধরনের যানবাহন অবস্থান করার নিয়ম নেই। দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।
বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিআইডবিউটিসির দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। তারা জানান, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে ঘাটে ভিড়ছে মানে সেখানে আনলোড-লোড দুটি বিষয়ই যুগপৎ ঘটে থাকে। সেখানে ফেরিতে লোড করা যানবাহন নামাতে হয় এবং পারাপারের জন্য অপেক্ষমান যানগুলোকে লোড করতে হয়।
ফেরি কর্মচারী বাকি বিল্লাহ বকুল বলেন, ঘাট ও পন্টুন জুড়ে অটোরিকশা অবস্থান করায় ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডে চরম অসুবিধা হচ্ছিল। সেই সঙ্গে, পন্টুনের শৃঙ্খলা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ছিল। ক্ষেত্র বিশেষে, পন্টুন থেকে অটোরিকশা অপসারণে কাজ করতে হচ্ছিল তাদের, যা সুখকর ছিল না। এটা কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিল।
ট্রাক চালক রশিদুজ্জামান জানান, ট্রাকে অনেক ভারী মালামাল লোড থাকে। যে কারণে ইচ্ছা করলেই গাড়ির গতি কম-বেশি করার সুযোগ থাকে না। সংযোগ সড়কে গাড়ির গতি কমালে ওই গাড়ি নিয়ে সড়কে উঠতে অনেক বেগ পেতে হয়। অনেক সময় উল্টেও যায়। রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশায় একটু ছোঁয়া লাগলেও বাস-ট্রাক চালকদের কাছ থেকে একটি চক্র বড় অংকের জরিমানা আদায় করে থাকে।
অটোরিকশাচালক ইউনুস আলি দাবি করেন, পন্টুন পর্যন্ত না গেলে লাগেজওয়ালা যাত্রী পাওয়া যায় না। তিনি না গেলেও কেউ না কেউ কোনোভাবে কাউকে ম্যানেজ করে ঠিকই পন্টুনে যাবেন। তাই এখানে প্রতিযোগিতার মতো পরিস্থিতি হয়ে যায়।
বিআইডবিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, এসব একেবারেই কাম্য ছিল না। তারা তাদের সীমিত লোকবল দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা করে আসছিলেন। তিনি জানান, এখন এই সমস্যা দুর হয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকালে বণিক বার্তাকে জানান, ২২ জন আনসার সদস্য ফেরিঘাটে কর্মরত। তারা এটি তদারকি করছেন। তাদের সাথে পুলিশ ছাড়াও বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী কাজ করছেন। তিনি জানান, বিআইডবিউটিসি চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।