ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অধস্তন নারী চিকিৎসককে অশোভন মন্তব্যের অভিযোগে নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি করেছেন অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় আজ সোমবার সকাল সোয়া ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালের রুটিন অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের ফেজ-এ রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. নুসরাত নওশিন নওরিন গত ১ নভেম্বর নিউরোসার্জারি বিভাগের ‘হোয়াইট ইউনিট’-এ যোগ দেন। ওই সময় ইউনিট প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম খান কথোপকথনের এক পর্যায়ে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন—যা অপমানজনক হিসেবে বিবেচনা করেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
ঘটনার পরদিন সকালে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসকরা একযোগে কর্মবিরতিতে যান এবং হাসপাতালের পরিচালক ও প্রিন্সিপালের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। বৈঠকে অ্যানেস্থেসিয়া সোসাইটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ডা. শামসুল ইসলাম খানকে ঢামেকের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে তাকে অন্যত্র বদলি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এ তার নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের ভাষ্য।
প্রায় দেড় ঘণ্টা কর্মবিরতির পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রুটিন অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। তবে জরুরি অপারেশন কার্যক্রম এ সময় স্বাভাবিক ছিল।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।