ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও চিকিৎসক সংকটে ভুগছে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসক কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। অনুমোদিত ১৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১১ জন নিয়োগপ্রাপ্তির পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনই যোগদান করেননি। যে চারজন কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে দুজন চলে গেছেন ট্রেনিংয়ে।

অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল। ফাটল ধরেছে ভবনে। খসে পড়ছে জরাজীর্ণ ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা। বৃষ্টির পানি চুয়ে নষ্ট হচ্ছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনদের। নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকও। নানামুখী সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসক কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। অনুমোদিত ১৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১১ জন নিয়োগপ্রাপ্তির পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনই যোগদান করেননি। যে চারজন কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে দুজন চলে গেছেন ট্রেনিংয়ে।

হাসপাতালটির অবকাঠামো সংকট এখন মারাত্মক আকার নিয়েছে। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়া ও ফাটলের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

হাসপাতালটিতে যে কয়জন রোগী আসছেন, ব্যাপক ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের সবাইকেই।

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের একজন পূর্ণিমা রানী। তিনি বলেন, হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার জন্য এসেছি। এসে দেখি কক্ষে ফ্যান নেই, বালিশ নাই, বেড কভার নাই। পলেস্তরা খুলে খুলে পড়ছে। শৌচাগারের অবস্থা আরো করুণ।

শায়লা আক্তার নামে আরেক রোগী বলেন, ‘আমি যে রোগের চিকিৎসা নিতে এসেছি, সে রোগের ডাক্তার এখানে নেই। আমি গরিব মানুষ কোথায় যাবো? দূরের হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই এখানে আসি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। পরে ২০১১ সালে এটিকে আরো ১৯ শয্যায় উন্নীত করে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা প্রিয় গোপাল বিশ্বাস জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে চার শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। অন্যদিকে ৫০ বেডের হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকে প্রায় ৮০ জন রোগী, যা ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। ভবন ও জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এখন অপরিহার্য।

আরও