কুষ্টিয়ায় পীর শামীমকে হত্যা

হয়নি মামলা, নেই আটক; আসকের উদ্বেগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর গতকাল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলায় আস্তানার তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়েরও গুরুতর আহত হন। তারা দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গতকাল বেলা ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হোসেন ইমাম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর ক্ষত পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত পীরের দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান।

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দিন বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কার্যক্রমই প্রত্যাশিত নয়। পরিবার মামলা করলে পুলিশ এক রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মামলা না করলে পুলিশ নিজস্ব গতিতে নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’

কুষ্টিয়ায় পীর শামীমকে পিটিয়ে হত্যা, তার দরবারে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে সংগঠনটি। আসকের আহ্বান, কুষ্টিয়ার এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সহিংসতায় উৎসাহিত না হয়।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

আরও