বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ যাতে সহজে ভোট দিতে না পারে সেজন্য একটি দল বিভিন্ন পর্যায়ে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারী জেলায় নির্বাচনী জনসভায় তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কারো সঙ্গে যদি অন্যায় হয়ে থাকে- সেই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার যারা কেড়ে নিয়েছিল, কথা বলার অধিকার যারা কেড়ে নিয়েছিল তারা দেশ থেকে পালালেও তাদের এক সহযাত্রী দেশে রয়ে গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় তারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। এ বহুরূপ ধারণকারীরা আজ বিভিন্ন জায়গায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারও ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু শুধু ভোট দিলেই চলবে না। আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পাড়ি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।
দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নীলফামারীতে ইপিজেড আছে। এ ইপিজেডকে আরও বড় করা হবে। আরও কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে, হয় তারা বিদেশে যাবেন অথবা দেশে ব্যবসা–বাণিজ্য করবেন।
এ সময় প্রতিটি পরিারের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের মধ্যে কৃষি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেইসঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুরসহ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বিএনপি সরকার গঠন করলে অন্যতম প্রধান কাজ হবে তিস্তা মহারিকল্পনার কাজ শুরু করা।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শিল্প অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাসহ যদি ভারী শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হয়, আমরা তা গড়ে তুলতে চাই। এ এলাকার মানুষ কৃষিনির্ভর। আমরা কৃষির ওপর নির্ভর থাকতে চাই না। এ এলাকার মানুষের যাতে কর্মসংস্থানের সমস্যা না হয়, এ জন্য আমরা এ অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সৈয়দপুরে এয়ারপোর্ট আছে। এ এয়ারপোর্টকে আমরা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হিসেবে রূপান্তরিত করতে চাই।