খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: সন্দেহভাজন রিফাত আটক

নিহত ২১ বছর বয়সি আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগরের বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের ছাত্রাবাসে গলি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পাশে অবস্থিত একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে আজমুল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০) নামের একজনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ান (এসআরবি)।

গতকাল (২১ সেপ্টম্বর) রাতে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়ে নগরীর হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন।

তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। আজমুলকে মারধরের সময় সে উপস্থিত ছিল। ঘটনার পর সে পালিয়ে যায়।

ওসি জানান, সম্প্রতি রিফাত কৃষি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। আজমুলদের মেসে থেকেই তিনি ব্যাংকে যাতায়াত করতেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

নিহত ২১ বছর বয়সি আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগরের বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের ছাত্রাবাসে গলি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবন পুরোটার ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।

মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা শুনেছেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।

এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। পরে তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২৫ জনের বিরুদ্ধে নগরীর হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

আরও