প্রতিদিন হাজারো বাসযাত্রীকে পচা কাদামাটি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ৩৫ বছর আগে নির্মিত বাস টার্মিনালটি সংস্কার বা মাটি ভরাটে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ।
কথা হয় টার্মিনালে আসা বাসযাত্রী খুলনার লবণচরা এলাকার বাসিন্দা নওশের শিকদারের সঙ্গে। তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য খুলনার উদ্দেশে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল এসেছেন। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে কাদা ও পানিতে জুতা, জামাকাপড় একাকার হয়ে গেছে। জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের এমন দশা দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
বাসচালক মুনছুর আলী বলেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সীমাহীন জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা টার্মিনালে নেমে বাস স্টাফদের গালাগালি দিয়ে থাকেন। তাছাড়া কাদামাটির কারণে বাসের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। টার্মিনালে একবার বাস প্রবেশ করলে ওয়াশ না করে চালানো সম্ভব হয় না।’ বাসচালক ইবাদাত হোসেন ও মোমিন আলীও জানান একই কথা।
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বলেন, ‘জেলার ২৩ লাখ মানুষ ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, নির্মিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি টার্মিনাল উন্নয়ন বা সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রতিনিয়ত নানা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে টার্মিনালে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় এমন অবস্থা বিরাজ করছে। এর আগে টার্মিনালটি একাধিকবার স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ঐকমত্যে না আসতে পারায় কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।’
সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য মো. জিল্লুর রহমান জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ বছরে মোটা টাকার রাজস্ব গ্রহণ করলেও টার্মিনাল উন্নয়নে কোনো কাজ করে না। ১৯৯০ সালের দিকে শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধুমোল্যা ডাঙ্গী এলাকায় নির্মাণ করা হয় এ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। এখানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটির মাটি ভরাট ও অন্যান্য সংস্কারকাজ করা হয় না। ফলে টার্মিনালের অভ্যন্তরে যাত্রীদের চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাস টার্মিনালের এমন দুর্ভোগের বিষয়টি বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আমাকে কখনো জানানো হয়নি।’ তবে জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।