প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, ‘গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্যমেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে আরো ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে।’
এছাড়া আরো তিনটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এলএনজি সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউকে পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে কীভাবে পাঁচটিতে উন্নীত করা যায়—সে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং সম্ভব হলে ২০২৮-এর আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
সরকারের সাত মাস পূর্তি উপলক্ষে গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের পথচলা শুরু হয়। খবর বাসস।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘জ্বালানি সংকট নিরসনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রাপ্তি এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে এবং আগামী দিনেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মাহ্দী আমিন। একই সঙ্গে সরকারের সাত মাসে জনকল্যাণে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ সংকট কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শিল্প-কারখানাগুলো আবারো সচল রাখা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
সরকারের সাত মাসের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৬ বছরের শাসন-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে দেশকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘একটি সুখবর দিতে চাচ্ছি। সেটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’সের রেটিংয়ে বাংলাদেশকে গতকাল (মঙ্গলবার) “নেতিবাচক” থেকে একটা লম্বা সময় পর “স্থিতিশীল” অবস্থায় ফেরত আনা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র।’
তিনি আরো বলেন, ‘যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বাস করি, শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগই বাড়বে না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাই বাড়বে না; বরং আমাদের ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে আমরা নতুনভাবে পুনর্গঠন করছি। যেখানে মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান হয়তো করে ফেলা কঠিন বা দুরূহ। তবে বর্তমান নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার, যার ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ, সেখানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা আজ প্রতিটি পদক্ষেপে দৃশ্যমান।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে গত বছরের এ সময়ের কিংবা গত মাসের এ সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় আমাদের মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে আমাদের যে ইনফ্লেশন রেট, সেটা কমে এসেছে। আমাদের খাদ্যপণ্য, দ্রব্যমূল্যের যে বৃদ্ধির হার—সেটা কমে এসেছে। এর পাশাপাশি আমাদের অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় যে খাদ্যপণ্য রয়েছে, সেটার জোগান তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো।’
জ্বালানি তেলের মূল্য সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং বিশেষত আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম। অর্থাৎ তেলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, যেন জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।’
এক মাসে সরকারের সাত পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘গত এক মাসে সরকার যেসব জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, আমরা এগুলোকে মোটামুটিভাবে সাতটি ডিফারেন্ট ভাগে বিভক্ত করতে পারি। এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাত প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।’
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কল্যাণ ও জীবনমানের উন্নয়নে সরকারি কিছু পদক্ষেপ আমরা গত এক মাসে দেখতে পেয়েছি। তার মধ্যে অন্যতম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তিতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন।’
তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ ও নবায়নে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার, ভূমি শাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদে একই কর্মস্থলে পদায়ন সম্পূর্ণ বন্ধকরণ, সম্পত্তি দান করার পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগ দখল ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুরক্ষা আইন পাস, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের সেরা ১০০ মেধাবী শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে বিশেষ জাতীয় অর্থ পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে স্থায়ী তহবিলে রূপান্তর, প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার নিরাপত্তায় দেশব্যাপী সিগনেচার প্রজেক্টগুলো যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়মিত সরকারি ভাতার সম্প্রসারণ।’
নারীর অগ্রযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং তাদের সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য গত এক মাসে সরকারের নেয়া পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সাইবার পরিসরে নারীদের হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ নারী শিক্ষার্থীদের সর্বজনীন উপবৃত্তি এবং স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের স্থায়ী নিশ্চয়তা বিধানের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
গত মাসের সরকারের কর্মকাণ্ড পরিচালনার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন।
এগুলোর মধ্যে আছে প্রবাসে কর্মরত লাখো নারী ও পুরুষ শ্রমিকের আইনি সুরক্ষায় ১৩ দেশের শীর্ষ ২২টি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর, মানবিক বিবেচনায় কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত নিরাপদ ভার্চুয়াল সাক্ষাতের ব্যবস্থা প্রবর্তন, মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ফিল্ড ফায়ারিং দুর্ঘটনায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সশরীরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি, খোঁজখবর এবং অনুপ্রেরণা প্রদান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারের সদস্যের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, কৃষি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কিছু কার্যকর দৃশ্যমান প্রকল্প এবং উন্নয়ন হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে জাতীয় গ্রিডে স্থগিত থাকা ১ হাজার ৪৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুনরায় সরবরাহ শুরু, শিল্প ও কৃষির বিকাশে উপজেলা ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি বৃহৎ সার কারখানা স্থাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে নতুন ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্তকরণ, কৃষকের সেচ খরচ শূন্যে নামিয়ে আনতে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা, রাঙ্গামাটির বিদ্যুৎহীন ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল উদ্যোগ, বাসাবাড়ির ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ১০ টাকা ইউনিট দরে ক্রয়ের প্রজ্ঞাপন জারি, সবুজ বিদ্যুৎ প্রকল্প উৎসাহিত করতে সোলার পাওয়ার প্লান্টের আধুনিক যন্ত্রাংশ আমদানিতে টানা ১৮০ দিন সব ধরনের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ মওকুফের ঘোষণা, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার টন উদ্বৃত্ত রেখে মোট ৫১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালুর উদ্যোগ, অচল প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭ পার্সেন্ট সুবিধার প্রস্তাব, দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড, একইভাবে বিভিন্ন কারণে যেসব কলকারখানা এতদিন সচল ছিল না সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে চালু করার জন্য বহুমুখী কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি—রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলাবিশিষ্ট সর্বাধুনিক বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আধুনিক আন্তর্জাতিক করপোরেট ব্যবস্থাপনা মডেলে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুলভে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বগুড়ার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৮০০তে উন্নীতকরণের বিশাল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
যোগাযোগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট ট্রাফিকের ক্ষেত্রে আমরা বেশকিছু পরিবর্তন দেখছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রনিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা স্থাপন করা হয়েছে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অসাধারণ অগ্রগতি দেখেছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী সংগঠনের গণহত্যাকারীদের সাতজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে গতকাল (মঙ্গলবার) আদালতে রায় প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী ৭৪ জন শহীদ পরিবারের যোগ্য সদস্যের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকরির স্থায়ী নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি জানান, প্রাণবন্ত, কার্যকর ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর জাতীয় সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর সংসদীয় নজরদারি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন ও নিয়মিত বৈঠককে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত, সাধারণ নাগরিকের সব সেবা, ভোটিং ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা এক ছাতার নিচে আনতে ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইটি প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম শুরু, গত পাঁচ মাসে বিদেশী ঋণের আসল ও সুদ বাদে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বা ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা সফলভাবে পরিশোধ করেছে সরকার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র বিশ্ববাজারের চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রনীতিতে ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের উদ্যোগ, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতি বছর ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসন সম্ভাবনা সৃষ্টি, ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশী কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন করে আরো ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি।
পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত রফতানির বাজার ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি, ইইউর চিহ্নিত ৬১টি বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সফল ও কার্যকর সমাধান, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের জনগণের জন্য ১ মিলিয়ন ডলারের জরুরি মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রদান, আকাশসীমা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে চীন থেকে ২০টি সর্বাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের জে-১০ সি সুপারসনিক যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে নিজস্ব নজরদারি ড্রোনে সুসজ্জিতকরণ এবং সিলেটে বিশেষায়িত ড্রোন ওয়ারফেয়ার ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা-সিউল সরাসরি নিয়মিত ফ্লাইট চালুর আনুষ্ঠানিক আলোচনা, নাগরিকদের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক চলাফেরার সুবিধার্থে বার্ষিক বৈধ ট্রাভেল কোটার পরিমাণ বৃদ্ধি করে মাথাপিছু ১৮ হাজার ডলারে উন্নীতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থানের বিশেষ ঋণ তহবিল প্রভৃতি বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা বলেন মাহ্দী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এএসএম মাহফুজুর রহমান, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ, মিডিয়া সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।