যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সংলাপ। হাওয়াইয়ে অনুষ্ঠেয় এ সংলাপে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপ। ঢাকায় সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মার্চে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সংলাপে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। উভয় দেশই মনে করছে সাম্প্রতিক বিশ্ব বাস্তবতায় দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা মজবুত করা জরুরি। যার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপে জিসোমিয়া দ্রুত সই করা এবং ক্রয়সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। অন্যদিকে মার্চে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব সংলাপেও সমরাস্ত্র ক্রয়ের গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি জিসোমিয়ার আপডেট ড্রাফট হস্তান্তর করা হয়।
জানা গিয়েছে, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনার জন্য গত মাসে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সংলাপের বিস্তারিত জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি বনি ডেনিস জেনকিনস কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হিসেবে ২০২২ সালকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘মাইলফলক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বক্তব্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠায় আরো সহযোগিতার প্রস্তাব করেন। ঢাকা-ওয়াশিংটন প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্রুত সইয়ে জোর দেয়া ছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাশীল অংশীদার নয় এমন দেশগুলোর সঙ্গে খাতির বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিস থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্ট (ক্যাটসা)’ নিয়ে নিরাপত্তা সংলাপে আলোচনা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ক্যাটাগরিক্যালি রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের নিরুৎসাহিত করেন। মার্কিন প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি এখানে বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরিতেও জোর দেন। তারা এ চিন্তার প্রচার এবং এটিকে কার্যকর করার জন্যই রাশিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্যাটসা বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে ক্রয় চুক্তি বা রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি সম্পাদন হয়েছে কিংবা ক্রয়ের বিষয়টি পাইপলাইনে রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ যেন হুমকির মুখে না পড়ে সেই নেগোসিয়েশনে রয়েছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত অষ্টম যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আগ্রহের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। অষ্টম নিরাপত্তা সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি বনি ডেনিস জেনকিনস নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, সমুদ্রে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) ও অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ) নিয়ে আলোচনা, প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, রোহিঙ্গা ইস্যু, জঙ্গিবাদ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করে দুই দেশ।
প্রসঙ্গত, এর আগে সাতটি বৈঠক দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ে হয়ে থাকলেও এবার বৈঠকটি পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর দুই দেশের সপ্তম নিরাপত্তা সংলাপ ঢাকায় ২০১৯ সালের ২ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আগামী নবম নিরাপত্তা সংলাপ ২০২৩ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।