সাগরে মাছ ধরার অনুমোদন পেতে ভিড় নৌযান মালিকদের

নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাণিজ্যিকভাবে মত্স্যশিকারি নৌযানগুলো সাগরে মাছ ধরতে পারেনি দীর্ঘদিন। অন্যদিকে ইলিশ ধরার ওপর আগামী মাসেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে মত্স্য বিভাগ। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে সাগরে মাছ ধরতে যেতে চাইছেন সমুদ্রগামী মত্স্যশিকারি নৌযানগুলোর মালিকরা। এজন্য সাগরে মাছ ধরার অনুমোদন পেতে সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তরে এসে ভিড় করছেন দারা।

নিষেধাজ্ঞা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাণিজ্যিকভাবে মত্স্যশিকারি নৌযানগুলো সাগরে মাছ ধরতে পারেনি দীর্ঘদিন। অন্যদিকে ইলিশ ধরার ওপর আগামী মাসেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে মত্স্য বিভাগ। অবস্থায় তড়িঘড়ি করে সাগরে মাছ ধরতে যেতে চাইছেন সমুদ্রগামী মত্স্যশিকারি নৌযানগুলোর মালিকরা। এজন্য সাগরে মাছ ধরার অনুমোদন পেতে সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তরে এসে ভিড় করছেন দারা।

৬৫ দিন বন্ধ থাকার পর সাগরে মাছ ধরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় গত ২৩ জুলাই। কিন্তু ওই সময়ে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনেক নৌযান সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। অন্যদিকে অক্টোবরের যেকোনো সময় ইলিশ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে মত্স্য বিভাগ। অবস্থায় সাগরে মাছ ধরা নিয়ে ব্যাপক তাড়াহুড়ো দেখা যাচ্ছে সামুদ্রিক মত্স্য আহরণে নিয়োজিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে। এক সপ্তাহ ধরে সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তরের সেইলিং পারমিট (এসপি) নিয়েছে দেড় শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ।

জানা গিয়েছে, ২৩ জুলাই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ওই মাসেই ২৯১টি জাহাজ সাগরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমের বিরূপ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে অনুমতি নিয়েও অনেক নৌযান সমুদ্রে যেতে পারেনি। কিছু নৌযান মাছ ধরতে গিয়েও মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। কারণে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সামুদ্রিক মত্স্য আহরণ করতে পারেনি মত্স্যশিকারি বাণিজ্যিক নৌযানগুলো। দীর্ঘ বিরতির কারণে বর্তমানে বড় ধরনের লোকসানের মুখে রয়েছেন খাতের বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই ঘনিয়ে আসছে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার মৌসুম। কারণে বর্তমানে দ্রুত সাগরে যেতে চাইছেন জাহাজ মালিকরা।

বিষয়ে জানতে চাইলে সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মনজুর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারো সমুদ্রে মাছ ধরার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন মত্স্যজীবীরা। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সমুদ্র উত্তাল থাকায় অনেক জাহাজই মাছ ধরতে যেতে পারেনি। অক্টোবরে ইলিশ প্রজননকালে মাছ ধরার ব্যান পিরিয়ড শুরু হবে। এজন্য যেকোনো সময় সমুদ্রে যেতে আগাম সেইল পারমিট নিয়ে রাখছেন জাহাজ মালিকরা। আবহাওয়া সুবিধাজনক হলে যেকোনো সময় মাছ ধরতে নৌযানগুলোকে প্রস্তুত রাখছেন তারা।

সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় অনুমোদন নেয়ার পরও সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি অর্ধেকেরও বেশি জাহাজ। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও কারণে সাগরে যাওয়ার অনুমতি নেননি জাহাজ মালিকরা। তবে গত ২০ আগস্ট থেকে হঠাৎ করেই নৌযানগুলোর মালিকদের মধ্যে অনুমতি নেয়ার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। ২০ থেকে ২৭ আগস্টের মধ্যে সেইলিং পারমিট সংগ্রহ করেছে ১৫৭টি নৌযান।

মত্স্য খাতের উদ্যোক্তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে সামুদ্রিক আবহাওয়া মাছ ধরার উপযোগী ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও বঙ্গোপসাগরের চারটি মাছ ধরার গ্রাউন্ডের মধ্যে দুটিতেই এখন বিরাজ করছে উত্তাল আবহাওয়া। এর মধ্যে কক্সবাজারের পশ্চিমের সাউথ প্যাসেজ টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমের সাউথ অব সাউথ প্যাসেজে আবহাওয়া বেশ বিরূপ। তবে মিডল গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত হাতিয়া নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণ অংশ এবং পটুয়াখালী খুলনার সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ব্লকে সাগর কিছুটা স্বাভাবিক থাকায় সেখানে সীমিত পরিসরে হলেও মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে। দেশের বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সাধারণত সাউথ সাউথ অব সাউথ ব্লকে মাছ ধরে বলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও এসব নৌযান সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি।

বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মশিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এরপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো অলস বসে ছিল। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারছে না। এর পরও যেকোনো সময় আবহাওয়া ভালো হওয়ার আশায় ট্রলার জাহাজ মালিকরা এসপি নিয়ে রাখছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেই সবাই মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে যাবেন।

জানা গিয়েছে, প্রতিটি সেইলিং পারমিট নিতে জাহাজের আকার ভেদে মালিকদের নির্দিষ্ট ফি সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তরে জমা দিতে হয়। এর মধ্যে মধ্যমাকৃতির নৌযানগুলো হাজার টাকা, চিংড়িশিকারি নৌযানগুলোকে হাজার টাকা কাঠের বডি সংবলিত যান্ত্রিক নৌযানগুলোকে হাজার টাকা ফি জমা দিতে হয় (১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ) একেকটি সেইলিং পারমিটের আওতায় কাঠের বডি সংবলিত নৌযান ১৩-১৪ দিন সাগরে মাছ ধরতে পারে। এছাড়া স্টিলের বডির বাণিজ্যিক নৌযান চিংড়িশিকারি নৌযানের ক্ষেত্রে মেয়াদ ৩০ দিন করে।

আরও