দেশে এক নতুন জালিমের আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের পেছনে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব না। এজন্য আমরা সব পরিবারের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যার মাধ্যমে তাদের ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারি। যেন যারা পুরুষদের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, ও দেশের অগ্রগতিতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালিমের আবির্ভাব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, এসব গুপ্তদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। যারা দেশের মানুষকে সম্মান করতে পারে না, যারা পরিকল্পনা করে রাখে, ১২ তারিখের পর জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে, তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে। আজ বুধবার বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বহুকাল আগে থেকে মাঠে, কল-কারখানায় আমাদের মায়েরা, বোনেরা, নারীরা পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছে। যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে আমরা এতো গর্ব করি, সেই শিল্পও টিকিয়ে রেখেছে আমাদের নারীরা। কিন্তু আমরা কষ্টের সঙ্গে বলছি, একটি গুপ্ত দলের নেতা দুদিন আগে বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছে। যে দলের নেতা-কর্মীদের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে দেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না, মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের পেছনে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব না। এজন্য আমরা সব পরিবারের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যার মাধ্যমে তাদের ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারি। যেন যারা পুরুষদের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, ও দেশের অগ্রগতিতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমরা মায়েদের কাছে যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, তেমনি কৃষক ভাইদের জন্য কৃষক কার্ড করে দিতে চাই, যেন প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কীটনাশক তাদের হাতে পৌঁছে দিতে পারি। আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১২ তারিখে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেব।

কর্মসংস্থান সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সমস্যা রয়ে গেছে। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোয় যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, সেজন্য আমরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। যেন তরুণ-যুবকরা দক্ষ হয়ে চাকরি-ব্যবসা করতে পারে, নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, বিদেশে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, গ্রামের মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায় না। গ্রামে-গঞ্জে মা, বোন ও শিশুদের জন্য হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করতে চাই আমরা। যেন তাদের কষ্ট করে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে না হয়।

একটি দলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নতুন জালিমরা নাকি নির্বাচনের ভুয়া সিল বানাচ্ছে, নিজেদের প্রেসে জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের এনআইডি বিকাশ নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে। তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন আনবে। যাদের শুরুই অসৎ কাজ দিয়ে, তারা কিভাবে সৎ মানুষের শাসন দিতে পারে।... যারা অপরাধ ঢাকার জন্য মিথ্যা বলতে পারে, তারা আর যাই হোক, সৎ মানুষের শাসন দিতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এদের এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। যেন তারা ১২ তারিখে আপনাদের অধিকার হাইজ্যাক করে নিয়ে যেতে না পারে।

ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করান। বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নজর রাখুন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা আপনাদের দেখাশোনা করবে।

সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লা আমান প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন। মহানগরের সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও বরিশাল দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দির আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

আরও