জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২৪ এর আন্দোলন করা হয়েছিল খুনি হাসিনার পতনের জন্য, এবার আমাদের কর্মসুচি হচ্ছে নতুন দেশ গঠনের জন্য। শেখ হাসিনার পতন হলেই হবে না, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত করতে হবে। দেশ থেকে মাফিয়া-দুর্নীতি সিস্টেমের পরিবর্তন করতে হবে। গত ১০ মাসেও সে পরিবর্তন দেখতে পাইনি। বিভিন্ন এলাকায় এখনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাফিয়া সিস্টেম দেখতে পাই। এই মুহুর্তে দরকার বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান।
শনিবার (৫ জুলাই) বিকালে জয়পুরহাট শহরে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে জেলা এনসিপি আয়োজিত বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে জুলাই পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সদর উপজেলা গেট থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়ে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের পথসভাস্থলে এসে যোগ দেয়। এ সময় রাস্তার দুপাশে শত শত উৎসুক জনতা জুলাই যোদ্ধাদের এক নজরে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল।
এনসিপির জয়পুরহাট জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সাবেক ছাত্রনেতা ফিরোজ আলমগীরের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মুনিরা শারমিন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মোদি সরকার ভারত থেকে মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে। দিল্লিতে বসে থাকা গণহত্যাকারী হাসিনাকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করুন। এদের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, চারদিকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়া হচ্ছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ৭২ এর মুজিববাদী সংবিধান পরিহার করে জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। জনগন গুম-খুন আর দেখতে চায় না। দেশ পুনর্গঠনে পরিবারতন্ত্র আর চলবে না। নেতা হওয়ার জন্য আর কারো কোনো রাজ পরিবারের সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নাই। এখন থেকে সাধারণ পরিবারের সন্তানরা তাদের মেধা কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ায় অবদান রাখতে পারবেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আকতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ওমর আলী বাবুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতারা।