অতিরিক্ত
রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের
কারণে কৃষিজমিতে অম্লত্ব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুর-জলাশয়
শুকিয়ে যাওয়ায় আবাদি জমিতে বাড়ছে অম্লত্ব। বর্তমানে দেশের ৪৬ শতাংশেরও বেশি
জমিতে অম্লত্ব বেড়েছে।
কৃষকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘রাজশাহী অঞ্চলে টেকসই মৃত্তিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গবেষণাগারের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার এ তথ্য জানান তারা। গতকাল সকাল ১০টায় প্রান্তিক কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে সেমিনারের আয়োজন করে রাজশাহী বিভাগীয় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)।
বক্তরা বলেন, ‘কৃষিজমিতে অম্লত্ব বাড়লেও সাধারণ কৃষক এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এ কারণে কৃষিজাত ফসলে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন সমস্যা। তাই মাটির অম্লত্ব দূরীকরণে আবাদি জমি পরীক্ষা জরুরি। এ নিয়ে কৃষকের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসআরডিআই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।’
সেমিনারে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা দেশের প্রতিটি জেলায় মৃত্তিকা গবেষণাগার স্থাপনের দাবি তোলেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে মাসে অন্তত ৪০-৫০ স্থানের জমি পরিদর্শন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তাগিদ দেন। কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসআরডিআইয়ের মহাপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় আপাতত ল্যাব স্থাপন করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। এক্ষেত্রে কিছুটা আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয় রয়েছে। তবে আমরা আগের চেয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার এবং মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের মাটি পরীক্ষা করার বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মাটি পরীক্ষা করে কৃষককে সমস্যা অনুসারে তাদের “সার সুপারিশ কার্ড” দিয়েছি। এ কার্ডের মাধ্যমে তারা কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবেন। এছাড়া কীভাবে অনলাইনের মাধ্যমে কৃষক ‘সার সুপারিশ কার্ড’ পাবেন সে ব্যাপারেও আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। তবে মাটিকে সুস্থ রাখতে কৃষককে অবশ্যই জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার করতে হবে।’