কোরবানির ঈদ বাজার

৩০০ টাকার কাঠের গুঁড়ি ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, পূর্ব হাজীপাড়া, মালিবাগ, মৌচাক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খাইট্টা নিয়ে ঢাকার বাজারে এসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বড় ছোট বিভিন্ন ধরনের খাইট্টা বিক্রি করছেন তারা।

আর মাত্র একদিন পরেই ঈদুল আজহা। কোরবানির এ ঈদ সামনে রেখে গরু, ছাগল কেনাবেচায় ব্যস্ত মানুষ। পশু কেনার পাশাপাশি শেষ সময়ে বাজারে চাহিদা বেড়েছে কোরবানির অনুষঙ্গ দা, ছুরি, চাপাতি, খাইট্টা (কাঠের গুঁড়ি), বাঁশের চাটাই, ঝুড়ি ইত্যাদির। এছাড়া ঈদের আগে কেনা পশুর জন্য কিনতে হচ্ছে কাঁচা ঘাস ও খড়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, পূর্ব হাজীপাড়া, মালিবাগ, মৌচাক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খাইট্টা নিয়ে ঢাকার বাজারে এসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বড় ছোট বিভিন্ন ধরনের খাইট্টা বিক্রি করছেন তারা। ১৮০ থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব খাইট্টা।

তবে কোরবানির অন্যতম এ অনুষঙ্গের চাহিদা থাকলেও বাজারে কমেছে ক্রেতা। কোরবানি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঠের গুঁড়ির ব্যাপক চাহিদা বাড়লেও চড়া দাম হাঁকা হচ্ছে। একটি পাটিকে চারটি কাঠের গুঁড়ি করা হয়। একটি পাটি কিনতে খরচ হয় ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। এছাড়া স মিল খরচ, শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি গুঁড়ির দাম পড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু বাজারে একটি গুঁড়ির দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

চাঁদপুরের দুদু খান গত শুক্রবার ৬২২টি কাঠের খাইট্টা নিয়ে কারওয়ান বাজারে এসেছেন। তার কাছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দামের খাইট্টা রয়েছে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বাজারে প্রতি বছর খাইট্টা নিয়ে আসি। এবারো ৬২২টি নিয়ে এসেছি। আমার কাছে বাজারের সবচেয়ে বড় খাইট্টা আছে। কোরবানি ঈদে খাইট্টার বেশি চাহিদা থাকে। এবারো চাহিদা আছে কিন্তু সেভাবে ক্রেতা আসছে না। গত শুক্রবার এসে এক সপ্তাহে মাত্র ২০ হাজার টাকার খাইট্টা বিক্রি করতে পেরেছি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে গাছের দাম বাড়ার কারণে খাইট্টার দামও বেড়েছে। যার কারণে মানুষ কিনতে আসছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘খাইট্টা সাধারণত কোরবানির দিনে দরকার হয়। যার কারণে অনেকে সেভাবে নিতে চান না। কয়েকজন মিলেও একটা কেনেন। এখন তেতুঁল গাছের কাঠের দাম বেড়েছে। আগে একটি খাইট্টা বানাতে খরচ হতো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সেটা এবার ৩০০ টাকা পর্যন্ত পড়ে যাচ্ছে। এছাড়া শ্রমিক খরচ, পরিবহন খরচ আছে সেগুলো মিলিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।’

সাধারণত বছরের অন্য সময়ে খাইট্টার ব্যবহার না থাকলেও কোরবানিতে গরুর মাংস ও হাড় কাটতে প্রয়োজন হয়। বছরের অন্য সময়ে এসব খাইট্টার প্রয়োজন না থাকায় সেভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে প্রতি বছর নতুন করে কিনতে হয়। রাজধানীবাসীর জন্য এটি কোরবানির অন্যতম অনুষঙ্গ। খাইট্টা মূলত তেতুল, বেল গাছের গুঁটি দিয়ে বানানো হয়। তবে সবচেয়ে বেশি কদর থাকে তেঁতুল গাছের খাইট্টার।

রামপুরার পূর্ব হাজিপাড়া গরু বাজারের সামনে ১৫০ পিস খাইট্টা নিয়ে বসেছেন ময়মনসিংহের যুবক আব্দুল মতিন। তার খাইট্টাগুলোর মধ্যে বড়গুলো ৫০০ টাকা, মাঝারি ৩০০-৩৫০ টাকা ও ছোটগুলো ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানি ঈদে খাইট্টার চাহিদা বেশি থাকে। প্রতি বছরই খাইট্টা নিয়ে আসা হয়। এবার ১৫০টি নিয়ে আসছিলাম। ৭০-৮০টা বিক্রি করেছি। বড় খাইট্টার দাম বেশি হলেও ছোটগুলো কম দামে বিক্রি করেছি। আজ কালকের মধ্যে বিক্রি না হলে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত থাকব।’

মতিন খাইট্টার পাশাপাশি কাঁচা ঘাসের আঁটি বিক্রি করছেন। তিনি জানান, ‘আগে থেকে যারা গরু কেনেন তারা এসব আঁটি কেনেন। ছোট আাঁটি ২০ টাকা আর বড়গুলো ২০০ টাকা। এবার তিনি ২০০ আঁটি এনেছেন।’

রামপুরা উলন বাজারের খাইট্টা বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, ‘গত ১০ বছর ধরে কোরবানি ঈদে ঢাকায় খাইট্টা বিক্রি করতে আসেন। প্রতি বছর ২০০ খাইট্টা আনলেও কাঠের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ১০০টি এনেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে (গতকাল) সকালে গাজীপুর থেকে ১০০টি খাইট্টা নিয়ে এসেছি। মানুষ এখনো কেনা শুরু করে নাই। অনেকে ঈদের দিন সকালে কেনেন। এখন কাঠের দাম বেড়েছে, যার কারণে খাইট্টার দামও বেশি রাখতে হচ্ছে। এখন অনেকে দাম দেখে যাচ্ছে, কয়েকজন অর্ডারও দিয়ে যাচ্ছে। ঈদের আগের সন্ধ্যায় নিয়ে যাবে। খাইট্টা বেচা শেষ করে বাড়ি যাব।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় না হওয়ায় প্রতি বছর কোরবানি এলে কিনতে হয় বলে জানান উলন বাজারে খাইট্টা কিনতে আসা জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এগুলো তো আমাদের সেভাবে প্রয়োজন হয় না। তেঁতুল গাছের কাঠের খাইট্টা খুজঁছি। শুধু কোরবানি এলে একটা লাগে। দা, ছুরির মতো খাইট্টারও দরকার হয়। এবারও একটা কিনব। কোরবানি শেষে এটির আর অস্তিত্ব থাকে না।’

আরও