গতকাল সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
এদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা। পরে বেলা ১টা ১৫ মিনিটে মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে চলতে থাকে কবর খোঁড়ার কাজ। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা চরগোবিন্দপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম আকন (দিলু) ও আইভী বেগম দম্পতির মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। দুই ভাইবোনের মধ্যে ছোট বৃষ্টি। একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে বাবা জহিরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকায় বসবাস করেন।
মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টির এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ পরিবার। মেয়ের শোকে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বৃষ্টির চাচিকে জড়িয়ে ধরে তিনি আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? এখন আমি কাকে নিয়ে থাকব। আমার বৃষ্টিকে তোমরা ফিরিয়ে দাও।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘ঈদে গ্রামে এসে যেন সবাই একসঙ্গে থাকতে পারি, সেজন্য বৃষ্টির পছন্দের নকশায় বাড়িটি করেছিলাম। জুলাইয়ে দেশে এসে তার এ বাড়ি উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু আমার মা বাড়ি উদ্বোধন না করে পরপারে চলে গেল। এখন এ বাড়িতে আমি কীভাবে থাকব। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টির পরিবারের পাশে আমরা সবসময় রয়েছি। ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল লিমনের এবং ২৬ এপ্রিল বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৪ মে লিমনের মরদেহ দেশে এনে সমাহিত করা হয়।