প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রবেশপত্রে ভুল, গাইবান্ধায় ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চয়তায়

গতকাল সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে। কারো নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য ভুল, কারো ক্ষেত্রে ধর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে ভিড় করেন

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিষয়টির জন্য তারা প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকারের গাফিলতিকে দুষছেন। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তবে প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরুর আগেই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিদ্যালয়টি থেকে চলতি বছর ২১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। আগামী বুধবার সারা দেশে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরাই নানা ধরনের ভুলের সম্মুখীন হন। কারো বাবা-মায়ের নাম ভুল, কারো ক্ষেত্রে পুরুষ শিক্ষার্থীর জায়গায় মেয়ের ছবি, আবার মেয়ের জায়গায় ছেলের ছবি বসানো হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানবিক বিভাগে দেখানো হয়েছে, আবার অনেকের প্রবেশপত্রই আসেনি।

ফরম ফিলাপে বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কম্পিউটার অপারেটরের সহায়তা না নিয়ে একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার দোকানে কাজ করিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার। এর ফলে গুরুতর ভুল হয়েছে বলে মনে করছেন পরীক্ষার্থীরা।

গতকাল সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে। কারো নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য ভুল, কারো ক্ষেত্রে ধর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে ভিড় করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা আরো দাবি করেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন।

পরীক্ষার্থী আল আমিন ও নাজিয়া আযম জানান, পরীক্ষা একদিন পরেই, কিন্তু তারা এখনো প্রবেশপত্র পাননি। তারা বলছেন, ‘ফরম ফিলাপই নাকি হয়নি। আমরা এখন কী করব, পড়াশোনা নাকি প্রবেশপত্রের চিন্তা করব বুঝতে পারছি না।’

অন্য এক শিক্ষার্থী পিয়াল সরকার জানান, নবম শ্রেণীতে ভর্তির সময় তার জন্মতারিখ ভুল হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সংশোধনের জন্য টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু এসএসসি প্রবেশপত্রে আবারো ভুল রয়েছে। খুব চিন্তায় আছি।’

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, ‘আমি নিজেই কম্পিউটারের কাজ করেছি। কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষার বাইরে না থাকে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সবাই ধৈর্য ধরুন, সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

ফরম ফিলাপে অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ করে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জোহা বলেন, ‘তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনলাইন ও কম্পিউটার কাজের নামে দুইশ-আড়াইশো টাকা নিয়েছে। এত টাকা নেয়ার পরও এমন ভুল অগ্রহণযোগ্য।’

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও