বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিটে বক্তারা

অর্থনৈতিক সাফল্য নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে

অর্থনৈতিক খাতে আমাদের সাফল্য অনেক, কিন্তু এসব সাফল্য আমাদের আরো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে অর্থনীতিচর্চার বিকল্প নেই। আমাদের তরুণদের নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

অর্থনৈতিক খাতে আমাদের সাফল্য অনেক, কিন্তু এসব সাফল্য আমাদের আরো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে অর্থনীতিচর্চার বিকল্প নেই। আমাদের তরুণদের নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিটের সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নানা দিক তুলে ধরে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ আয়োজনে গণমাধ্যম সহযোগী ছিল বণিক বার্তা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যপী এ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন ও ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের মডারেটর অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। 

ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘সময়োপযোগী নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগে অর্থনীতিবিদদের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। তাই সেই ছয় দফা দাবি থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম পরিকল্পনা কমিশনেও আমাদের জাতির পিতা অর্থনীতিবিদদের বিশেষ স্থান দিয়েছিলেন। কারণ তিনি দেশ পুনর্গঠনে অর্থনীতিবিদদের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্ঞান যে পরিপূর্ণ নয়, আমাদের যে অন্যদের কাছ থেকেও কিছু শেখার আছে এ বোধ আমাদের থাকা উচিত।’

গত তিনদিন দেশের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদরা অংশ নেন সমসাময়িক অর্থনৈতিক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা-বিষয়ক নানা সেমিনার ও পাবলিক লেকচারে। এ সময় বক্তারা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য সংকটের কথা তুলে ধরে তরুণ অর্থনীতিবিদদের এসব সংকট সমাধানের জন্য প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দেন। 

সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড খ্যাত ইকোনকোয়েস্টের ফাইনাল রাউন্ড। প্রতিযোগীদের শাণিত যুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞায় জমে ওঠে ইভেন্টটি। সমাপনী অধিবেশনে ইকোনকোয়েস্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। 

এ আয়োজনের প্রশংসা করে ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘৫০ বছর ধরে একটি ক্লাবকে শিক্ষার্থীরা শুধু অব্যাহত রাখেনি, তারা এর কলেবর বৃদ্ধি করেছে। এটা আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে।’ এত বৃহৎ পরিসরে নিজ বিষয় চর্চার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘শক্তি পরিবৃত্তি ও স্থায়িত্ব: একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশগ্রহণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, গ্রিন এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. খসরু মোহাম্মাদ সেলিম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস বাংলাদেশের (আইইইএফ) প্রধান বিশ্লেষক শাফিকুল আলম এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পরিবেশগত অসংগতি বেড়েছে। শক্তি উৎপাদনকারী এবং প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রণ ভারসাম্য হিসেবে ভোক্তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে আছি। জ্বালানি সংরক্ষণে জাপানের মতো দেশ যেখানে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, সেখানে আমাদের দেশে মাত্র ৫ শতাংশ শক্তির পরিবর্তন হয়। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করার জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির আঙ্গিকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারি, তাহলে ২০৪১-এর মধ্যে শক্তি রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন করা যেতে পারে।’

আরও