বাংলাদেশ কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

উদ্বোধনের আগেই দেয়ালে ড্যাম ধরা পড়ছে নানা অসংগতি

পদ্মার উত্তর তীরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

পদ্মার উত্তর তীরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রশিক্ষিত কারা প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য সরকার প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। এখানে কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, ডেপুটি জেলার, জেলারসহ সব কারা স্টাফকে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েক দফা সময় বৃদ্ধির পর বর্তমানে প্রকল্পটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু এর আগেই নবনির্মিত ভবনের কয়েকটি কক্ষে দেয়াল ড্যাম হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা নিয়েও। প্রকল্পের শুরুতে ভবন নির্মাণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে লোকবল সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে না পারায় প্রকল্পটিতে পাঁচ দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়। দীর্ঘদিন পরিচর্যা ছাড়া থাকার কারণে নবনির্মিত কারা প্রশিক্ষণ ভবনে এমন ড্যাম সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পে সমন্বয় যথাযথ তদারকি না থাকায় ধরনের ত্রুটি সামনে আসছে।

কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে নির্মাণকাজের ত্রুটি সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতার বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে নবনির্মিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবনের দ্বিতীয় তলার বাম পাশের চারটি রুমের দেয়ালে অন্তত চার ফুট জায়গা ড্যাম হয়েছে। এগুলো হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। উদ্বোধনের আগেই দেয়ালে ড্যাম হওয়ার বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রণালয়কে জানান, প্রকল্পের ভবনগুলো চার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য ভবনের দেয়াল ড্যাম হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, ‘আমরা বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সমাধান করব।

ভবন ড্যাম হওয়া ছাড়াও নবনির্মিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানাপ্রাচীর নিয়েও জটিলতা রয়েছে। কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে সীমানাপ্রাচীর আরো উঁচু করার পরামর্শ এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কারা অধিদপ্তর থেকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীদের কারাগারের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, সুশৃঙ্খল আচরণ, বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, সৌজন্যবোধ প্রয়োজনীয় বিধিবিধান সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। লক্ষ্যে রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর। প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছিল এরও দেড় বছর আগে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল তিন বছর। সেই হিসাবে ২০১৯ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত তিন বছরের কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে ছয় বছর। এর মধ্যে চার দফা সময় বৃদ্ধি করতে হয়েছে। ফলে বছর বছর মেয়াদ বাড়ায় স্থায়ী ভবনসহ আধুনিকায়ন প্রকল্পের ব্যয় সময় দুটিই বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পগুলো দ্রুত দৃশ্যমান করার জন্য প্রথমেই অবকাঠামো নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লোকবলের অভাবে দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এভাবে বছরের পর বছর নবনির্মিত ভবন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় সেখানে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। ধরনের সমস্যা এড়াতে প্রকল্প গ্রহণের শুরুতেই লোকবল সরঞ্জামের সংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণকাজ করা হলে ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রায় ৬৬ একর জমির মধ্যে ২৪ একর জমিতে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় তিন তলা এমআই ভবন, পুরুষ নারীদের জন্য ট্রেইনি ব্যারাক, প্যারেড গ্রাউন্ড, কোয়ার্টার হাজার ৯৯২ বর্গফুটের একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভবনের সঙ্গে নতুন করে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, এমআই ভবনে নতুন করে দুটি ফ্লোর, ডাইনিং কাম কিচেনসহ এসি লিফট রয়েছে।

কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১। দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভূমি উন্নয়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের কাজ দেরিতে শুরু হয়েছিল। এর ওপর দেশে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধি পরিকল্পনা পরিবর্তনসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের শুরুতেই ভবন নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিন সেটি অব্যবহৃত থাকায় দেয়ালে ড্যাম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

উদ্বোধনের আগেই ভবনের চারটি কক্ষের দেয়ালে ড্যাম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগ- রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেয়ালে ড্যামের বিষয়টি সংস্কার করা হয়েছে। মূলত যেদিন পরিদর্শন টিম এসেছিল, সেদিন রঙের কাজ চলছিল। রঙ কিছুটা কাঁচা থাকায়, ওই অংশকে ড্যাম মনে করেছেন পরিদর্শনকারী দলের সদস্যরা। তাছাড়া প্রকল্পটির মেয়াদ বেশ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। সময়ের মধ্যে ভবনটি অব্যবহৃত থাকার কারণেও এমন সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রকল্পটি ২০১৪ সালের। সে সময়ের রেটে ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানাপ্রাচীর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একনেকের সভায় অনুমোদিত নকশায় যেভাবে বলা হয়েছে, নির্মাণকাজও সেভাবেই সম্পন্ন হয়েয়েছ। প্রকল্পে পাঁচ ফুট সীমানাপ্রাচীর ছিল। সে অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের সংশোধন এনে সীমানাপ্রাচীর উঁচু করার সুযোগ রয়েছে।

আরও