রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে বাড়তি গাড়ির চাপ সামাল দিতে ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরের পাঁচ দিন মোট ১০ দিন অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হবে। এ সিদ্ধান্তে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ির চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি ঈদের এখনো সপ্তাহখানে বাকী থাকলেও ঘরমুখো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহনের চাপও বেড়েছে এ ঘাটে।
এছাড়া আজ মঙ্গলবার ১৯টি ফেরির মধ্যে দুটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতে পারাপারের জন্য কয়েকশ’যানবাহন নদী পারে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরম, তীব্র তাপদাহে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক, যাত্রী ও সহযোগীদের।
জানা গেছে, নৌরুটে চলাচলকারী ১৯টি ফেরির মধ্যে গত দুইদিন ধরে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও এনায়েতপুরী নামের দুইটি বড় ফেরি নষ্ট হওয়ায় সেগুলো মেরামতে রয়েছে। এছাড়াও হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা ও মাধবীলতা ফেরি তিনটিও বিকল হলেও সেগুলোকে সাময়িক মেরামত করে পুনরায় চালানো হচ্ছে। ফেরি কমে যাওয়ায় এবং একসঙ্গে বাস-ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার করতে গিয়ে হিমশিমে পড়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে বাস যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের কারণে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপারে সময় বেশী লাগছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ নেওয়াজ বলেন, ঈদযাত্রার ঘরমুখো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাকও আসছে অনেক বেশী। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার সকালেই ঘাটে পারের অপেক্ষায় রয়েছে ৫শ’ট্রাকসহ দুই শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়ি। একসঙ্গে এত গাড়ি পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি জানান, বিরতিহীনভাবে ফেরিগুলো চলাচল করায় কয়েকটি ফেরি বিকল হয়েছে। সেগুলোকে স্থানীয়ভাবে মেরামত করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে আগামী দুইদিনের মধ্যে এই বহরে নতুন দুইটি ফেরি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে পাটুরিয়াঘাট পরিদর্শন করেছেন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জিহাদুল কবির। ফেরিঘাটকে যানজট মুক্ত রাখাসহ ঈদের নিরাপদে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৯টি ফেরির মধ্যে দুইটি বিকল থাকায় চলাচল করছে ১৭টি ফেরি। বিকল ফেরি দুইটি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতের কাজ চলেছে।