টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প

নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪ জেলার যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করছে সরকার।

২০২২ সালের মার্চে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে। প্রকল্পটি শেষের নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে ৫০ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।

যাত্রীরা বলছে, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ এখনো চলমান। সেই সঙ্গে সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ অবস্থায় মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপসহ ঈদযাত্রায় যানজটে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ বলছে, ঈদে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকার সম্ভাবনা থাকলেও কোনো ধরনের যানজটের শঙ্কা নেই। নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা করতে মির্জাপুরের গোড়াই অংশ থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মার্চে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে গত ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। তবে কাজ শেষ হয়েছে ৫০ শতাংশ। পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ চলমান রয়েছে। সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

কাজের অগ্রগতির বিষয়ে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ও বালি সংকট থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে বেগ পেতে হয়েছে। ঈদের আগে মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেন যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। নতুন বছরে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হবে।’

পরিবহন চালকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে এ মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। ফলে বিভিন্ন সময় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ঈদ এলেই মহাসড়কে তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয়। অন্য সময় কাজের তেমন গতি দেখা যায় না। আবার যমুনা সেতুতে টোল আদায় দেরি হলে আরো যানজটে পড়তে হয়।

যাত্রীরা বলেন, ঈদ এলে যত ঝামেলা বাধে। গাড়ির চাপ বাড়ে, আবার মহাসড়কের ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তবে ঈদে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজটের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এরই মধ্যে বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার ঈদে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকবে। তবে কোনো ধরনের যানজটের শঙ্কা নেই। যেহেতু টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে ২৩ জেলার মানুষ ঈদে বাড়ি ফিরবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মির্জাপুরের গোড়াই অংশ থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এবার কোনোভাবেই সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেয়া হবে না। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চললেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কারণ আমরা বিকল্প হিসেবে এলেঙ্গা লিংক রোড দিয়ে যানবাহন যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি।’

আরও