সাহেদের বিরুদ্ধে সিআইডির ২৯ পাতার অভিযোগপত্র

কভিড টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২৯ পাতার অভিযোগপত্রটি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অপরাধ তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে।

কভিড টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২৯ পাতার অভিযোগপত্রটি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অপরাধ তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে।

সাহেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‌বিস্তর তদন্তে সাহেদের মোট ১১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা আদালতের নির্দেশে জব্দ রয়েছে। আত্মসাৎকৃত অর্থের গন্তব্য শনাক্তের পর সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৯০ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭০ টাকা আত্মসাৎ করেন সাহেদ। এর বাইরে কভিড পরীক্ষার জাল সনদ সরবরাহ করে আরো ৩ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ২২৭ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। সব মিলিয়ে তিন বছরে তার প্রতারণালব্ধ অর্থের পরিমাণ ১১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা। এর মধ্যে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা তিনি ভোগবিলাসে খরচ করেন। অভিযোগপত্রে এ তথ্যগুলোর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

রিজেন্ট হাসপাতাল সরকারিভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করা হাসপাতালগুলোর একটি। বাংলাদেশে করোনা মহামারী ঊর্ধ্বমুখী থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের জুলাইয়ের শুরুর দিকে রিজেন্ট হাসপাতালের জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা করা হয় উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়। এর মধ্যেই পালিয়ে যান সাহেদ। র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের পর প্রতারণাসহ নানা অপকর্ম নিয়ে অনুসন্ধানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছরে ব্যয় করা অর্থের বেশিরভাগই সাহেদ তার অবকাশ যাপন, বিদেশ ভ্রমণ, শপিং এবং দামি ব্র্যান্ডের গাড়ির পেছনে খরচ করেছেন। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পাঁচ তারকা হোটেলে সাহেদের নিয়মিত অবকাশ যাপন করে মোটা অংকের বিল পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নিয়মিত বিদেশে গিয়ে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে তিনি কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছেন। এছাড়া বিএমডাব্লিউ ও অডির মতো দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনার পেছনের অপরাধলব্ধ অর্থ ব্যবহার করেছেন তিনি। 

ধানমন্ডি থানায় ২টি, পল্লবী থানায় একটি, বরিশালে একটি, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারণে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ সাহেদের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩২টি মামলা রয়েছে। এরই মধ্যে অস্ত্র আইনের মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

আরও