মহামারীর অভিঘাত মোকাবেলা করে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে শিল্পায়নের যাত্রা হয় মূলত আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। পরের তিন দশকে বিনিয়োগ ও শিল্প বিকাশের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কল-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর বেশির ভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি হলেও অর্থনীতির চালিকাশক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিল মূলত বেশকিছু কনগ্লোমারেট। উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের পাশাপাশি

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে শিল্পায়নের যাত্রা হয় মূলত আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। পরের তিন দশকে বিনিয়োগ ও শিল্প বিকাশের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কল-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর বেশির ভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি হলেও অর্থনীতির চালিকাশক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিল মূলত বেশকিছু কনগ্লোমারেট। উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হিসেবে এখনো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোই তাদের শিল্প সামর্থ্য কাজে লাগিয়েছে, নিয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। চলমান কভিড-১৯ মহামারীর অভিঘাত মোকাবেলার ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানই।

দেশের শিল্প খাতগুলোর আকার ও সক্ষমতার তথ্যেও দেখা যাচ্ছে বড়দেরই আধিপত্য। ইস্পাত, ওষুধ, সিমেন্ট, ভোগ্যপণ্য, বস্ত্র ও পোশাক—সব খাতেই সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। কভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকারের প্রণোদনা বরাদ্দপ্রাপ্তি ও বাস্তবায়নে বড়রাই ছিল এগিয়ে। ইস্পাত খাত একসময় আমদানিনির্ভর ছিল। তবে গত এক দশকে এ খাতে স্থানীয় বড় করপোরেটদের অংশগ্রহণের ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। দেশের চাহিদার বড় অংশ বর্তমানে স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ থেকে রফতানি হচ্ছে ইস্পাত। স্থানীয় উৎপাদকরা নন-গ্রেডেডের পরিবর্তে গ্রেডেড ও বিশেষায়িত ইস্পাত উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছেন। কারখানায় নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে।

ইস্পাত শিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) তথ্যমতে, বর্তমানে ইস্পাত শিল্পের বাজারের আকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০। ইস্পাত খাতে বর্তমানে ৯০ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে ৫৫ লাখ টন। যদিও করোনার কারণে গত বছর সেটি ৩০-৩৫ লাখ টনে নেমে এসেছিল। অবশ্য এ বছরের শুরুতে ইস্পাতের চাহিদা আবার বেড়েছে। এ খাতে এরই মধ্যে ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। ইস্পাতের বাজারে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুল খায়ের, বিএসআরএম গ্রুপ, জিপিএইচ ইস্পাত, কবির স্টিল ও এমওএইচ স্টিল।

দেশে ইস্পাত খাতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম। বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলিহোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, বড়রা কর বা ব্যবসায়িক সুবিধা পেলে তা পকেটে নিয়ে বসে থাকে না। নীতি তৈরি করা হয় মূলত দেশের জন্য। এবারের বাজেটে দেশে মেগা শিল্পের বিকাশ ও আমদানি বিকল্প শিল্পোৎপাদনকে ত্বরান্বিত করতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। যাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে তারাই এগিয়ে আসবে। এর সুফল হিসেবে যুক্ত হবে ছোট ছোট উদ্যোগ। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা মেগা প্রকল্পগুলো সামনে রেখে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো, এটার সুফল তো দেশের অর্থনীতিতেই দৃশ্যমান হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব দেশে করহার কম দেখা যাবে, সেসব দেশ রফতানিমুখী।

অনুকূল নীতিকাঠামোর কারণে দেশের ওষুধ খাতে বর্তমানে স্থানীয় করপোরেটদের প্রাধান্য লক্ষণীয়। ওষুধ খাতের বর্তমান আকার ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর ৭০ শতাংশই শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের দখলে। শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা লিমিটেড ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতি বছর ওষুধ খাতে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ২০২৫ সালে এ খাতের আকার বেড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের ১৫১টি দেশে রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ। এ রফতানির পরিমাণ ২০২৫ সালে ৫০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, কভিড-১৯-এর মতো অভিজ্ঞতা কারোরই ছিল না। কভিডের সংক্রমণ যখন বাড়তে শুরু করল তখন কিন্তু অল্প কিছু কোম্পানি স্যানিটাইজার উৎপাদন করত। কিন্তু সংক্রমণ বৃদ্ধির আভাসে বড় বেশকিছু কোম্পানি সুরক্ষা পণ্য উৎপাদন শুরু করেছিল। সার্বিকভাবে কভিড মোকাবেলায় রাতারাতি বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যার যার সক্ষমতা কাজে লাগাতে শুরু করে দিয়েছিল। ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে। স্বাভাবিক সময়ের পাশাপাশি দেশে বড় দুর্যোগের মতো চ্যালেঞ্জগুলো যখন আসে তখন বড় কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসে। এছাড়া বিভিন্ন ছোট উদ্যোগেও বড়রা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

নব্বইয়ের দশকের প্রথম ভাগেও দেশে সিমেন্টের চাহিদার ৯৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হতো। ইস্পাতের মতো স্থানীয়ভাবে সিমেন্ট উৎপাদনেও সফলতা দেখিয়েছেন বড় উদ্যোক্তারা। সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর এ খাতে বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিগুলো ব্যবসা শুরু করে। শুরুর দিকে বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানিগুলো ব্যবসায় প্রধান্য বিস্তার করেছে। যদিও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় কোম্পানিগুলো ব্যবসার দিক থেকে বহুজাতিকদের তুলনায় এগিয়ে গেছে। 

সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে সিমেন্টের বাজার ২৮ হাজার কোটি টাকার। এ খাতে ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। এর মধ্যে পাঁচটি বহুজাতিক। সিমেন্ট খাতের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে ছয় কোটি টন, যদিও ব্যবহূত হচ্ছে সাড়ে তিন কোটি টন। উদ্যোক্তারা এ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছেন। সিমেন্ট খাতের শীর্ষ উৎপাদকদের মধ্যে রয়েছে আবুল খায়ের, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বসুন্ধরা সিমেন্ট, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতই কিন্তু প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে আছে, যার মধ্যে বিশেষ ভূমিকায় ছিল বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। বেসরকারি খাত ঠিকভাবে চলার জন্য বড়-ছোট সব উদ্যোক্তার চাওয়া হলো উপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করে পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কর, অবকাঠামো, বন্দর সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো নিশ্চিত করা হলে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ সহজ ও সাশ্রয়ী হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে মেলে।

নগরায়ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থানের প্রভাবে দেশে ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস বা এফএমসিজি পণ্যের বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। এফএমসিজি খাতের পণ্যগুলোকে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বর্তমানে দেশে এফএমসিজি পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার। প্রতি বছর গড়ে এ খাতে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এ খাতে একসময় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বর্তমানে বহুজাতিকের পাশাপাশি স্থানীয় বড় করপোরেটরাও এ খাতের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। দেশে এফএমসিজি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ইউনিলিভার, সিটি গ্রুপ, এসিআই, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ, কোকা-কোলা, নেসলে, ম্যারিকো ও স্কয়ার।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কিচেন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্য রয়েছে, যা ফাস্ট মুভিং কনজিউমার ডিউরেবলস (এফএমসিডি) হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের পণ্যের বাজারও ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা এসব পণ্য দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ খাতের বাজারের আকার প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার। এ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়ালটন, সিঙ্গার বাংলাদেশ, জেনারেল ইলেকট্রনিকস ও গ্রি ইলেকট্রিক।

দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নেতৃত্বে থাকা টি কে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা বেশি তারা ব্যবসার প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে বড় পরিসরে ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য উদ্যোক্তারা ব্যবসা করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। পর্যাপ্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কম মূল্যে জমি পাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হলে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হন উদ্যোক্তারা। এছাড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে নলেজ বেজড করতে হবে, যাতে বিশ্বের নতুন আইডিয়াগুলো দেখার সুযোগ মেলে। ইনোভেশনে মনোযোগী হওয়াটা খুবই জরুরি।’

আশির দশকের পর দেশে সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত ও শ্রমঘন খাতে পরিণত হয়েছে এমন খাতের মধ্যে আছে বস্ত্র ও পোশাক। দেশের মোট রফতানির ৮৫ শতাংশই হচ্ছে বস্ত্র ও পোশাক। এ রফতানিতেও বড়রাই বেশি অবদান রাখছে। ১৯৮৪ সালে একটি মাত্র কারখানার মাধ্যমে পোশাক খাতে যাত্রা করে হা-মীম গ্রুপ। এরপর সাড়ে তিন দশকে গ্রুপটিতে যুক্ত হয়েছে আরো ২৬টি কারখানা। হা-মীম গ্রুপের এসব পোশাক কারখানায় কাজ করছেন ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক। রফতানি আয়ও বার্ষিক ৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

সক্ষমতা বিবেচনায় হা-মীমের মতোই পোশাক শিল্পে বড় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৃহৎ উৎপাদন ক্ষেত্র নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশ কারখানা। এ ১০ শতাংশ বড় কারখানাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের পোশাক খাতের ব্যবসা। হা-মীম, অনন্ত গ্রুপ ছাড়াও এ তালিকায় আছে স্কয়ার, ব্যাবিলন, এনভয়, স্ট্যান্ডার্ড, ডেকো, ইসলাম, নাসা, ইউতাহ, তুসুকা, বেক্সিমকো, এসকিউ, আরমানা, বিটপি, ডিবিএল, দিগন্ত, গিভেন্সি, ভিয়েলাটেক্স, একেএইচ ও মণ্ডল গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ১০ শতাংশ কারখানার রফতানি সক্ষমতা অনেক বেশি।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে এসএমইর অবদান খুব দৃশ্যমান হয় না বেশির ভাগ সময়। কিন্তু বড়রা বেশ দৃশ্যমান থাকে। এ কারণে বড়দের নিয়ে পরিকল্পনা ও ভাবনাগুলোও বেশি দৃশ্যমান থাকে। কিন্তু বড়দের ব্যাংকঋণ কত, এটা কেউ দেখে না। বড়দের কোনো কোনোটির ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংকঋণও আছে। দেখা যায়, সম্পদের চেয়ে দায় অনেক বেশি। বড়দের সবাই যে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে তা নয়। সক্ষমতা বেশি বিবেচনায় বড়দের ভূমিকা হয়তো বেশি দৃশ্যমান হয়, কিন্তু আমি মনে করি এসএমইদের অবদানও জিডিপিতে কম না।

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন না অর্থনীতির গবেষক ও বিশ্লেষকরা। বড়দের ভূমিকাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করলেও ছোটদের ভূমিকা কম নয় বলে মত প্রকাশ করছেন তারা। তাদের দাবি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বিবেচনা করলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও অটোমেশনের প্রভাবে বড়রা কিন্তু ততটা কর্মসংস্থান দিতে পারবে না। কিন্তু অধিকতর কর্মসংস্থান করতে গেলে বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর বিনিয়োগ বেশি করতে পারে বড় প্রতিষ্ঠান। বড় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করলেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দারিদ্র্য ঘুচবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বড়দের ওপর নির্ভরতা থাকবেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, অর্থনীতির তাত্ত্বিকদের মধ্যে অনেকেই অর্থনীতিতে বড়দের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন যে বড়দের ব্যয় অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। অনেক তাত্ত্বিক সরকারের কথাও বলেছেন। আর এর প্রয়োগ দেখা যায় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে। তবে অর্থনীতিতে বড়দের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারিদেরও ভূমিকাও আছে। কারণ বড়রা যা উৎপাদন করে, তা কেনে ছোটরাই। এভাবে বড় থেকে ছোট ও ছোট থেকে বড়—এ চক্রের আবর্তেই সচল থাকে অর্থনীতি।

অর্থনীতির বিশ্লেষক ও সাবেক ব্যাংকার মামুন রশীদ বণিক বার্তাকে বলেন, কভিডকালের মতো একটা জরুরি পরিস্থিতিতে বড়রা যেটা পারবে ছোটরা সেটা পারবে না। যেটাকে অর্থনীতি ও সরবরাহ চেইনের ভাষায় বলা হয় স্কেল-আপ। এক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মা, ইনসেপ্টা, স্কয়ার—এ ধরনের বড় কোম্পানিগুলো যত তাড়াতাড়ি স্যানিটাইজার, ডিজইনফেকট্যান্ট আনতে পেরেছে, সেটা অন্যরা পারবে না। এসিআই যত দ্রুত স্বপ্নের সরবরাহ চেইন উন্নত করতে পেরেছে, কিংবা যত তাড়াতাড়ি মীনা বাজার মীনা ক্লিক নিয়ে এগিয়ে আসতে পেরেছে, ছোটরা তা পারবে না। তাই আপত্কালীন সময়ে বড়দের ওপরই নির্ভর করতে হয়। তবে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে দারিদ্র্যমুক্ত করার জন্য, অধিকতর জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার জন্য আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের দিকে জোর দিতে হবে।

আরও