দেশে প্রতি চারজনে একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে

স্ট্রোক হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা শতভাগ থাকে।

দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্ট্রোকের রোগী। গত ৪০ বছরে রোগটির তীব্রতা শতভাগ বেড়েছে।বর্তমানে প্রতি চারজনে একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। দেশে মোট মৃত্যুর তৃতীয় কারণ এটি।কেবল বাংলাদেশই নয় অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর চিত্র একই। উল্টোদিকে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে স্ট্রোকের মাত্রা কমেছে ৪২ শতাংশ। আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন চিকিৎসকরা।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় না করলে সময় ক্ষেপন, স্ট্রোক হলেও বাঁচবে জীবন

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, উচ্চরক্তচাপের রোগীদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনের ৪৮ জনই স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে প্রতি ১০০ জনের ৩৬ জন স্ট্রোকের শিকার হচ্ছেন। রোগটিতে আক্রান্ত ১৭ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপের শিকার। এছাড়া আক্রান্তদের ২৩ শতাংশ জাঙ্ক ফুডে আসক্ত বলেও জানান তিনি।

নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুমন রানা বলেন, স্ট্রোক হওয়ার পর রোগীদের মস্তিষ্কের রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতি মিনিটে বিশ লাখ করে নিউরন নষ্ট হতে থাকে। ফলে যত দেরিতে চিকিৎসা শুরু হবে রোগীর তত বেশি ক্ষতি হবে। স্ট্রোক হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা শতভাগ থাকে।

তিনি আরো বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব না হলে রোগীরা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে ৩ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। এসব জটিলতার মধ্যে রয়েছে হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা বলতে না পারা। তবে দেশের ৯৫ শতাংশ রোগীই চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা্ নিতে আসতে পারেননা বলেও জানান এ চিকিৎসক।

এসময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে তাদের হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। অত্যাধুনিত ক্যাথল্যাবের মাধমে এসব রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ২০ শয্যার আলাদা স্ট্রোক ইউনিট চালু করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে বছরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন সাত লাখ মানুষ। এসব রোগীদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন এক লাখ ৬০ হাজার জন। আর বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশ মারা যান বা পঙ্গুত্ববরণ করেন।

স্ট্রোকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পারলে রোগীদের অনাকাঙ্খিত মৃতুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

আরও