পোশাক খাতের অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ সভার আয়োজন করে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান সেলিম।
স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান জানান, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবীণ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও এ সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকেরা ব্যাংকের মাধ্যমে চাঁদা দিয়ে এই স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে পেনশনের অর্থ ফেরত পাবেন। গ্রাহক ৬০ বছরের আগে মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি মুনাফাসহ টাকা পাবেন। আয় সংকটে চাঁদার হার কমবেশি করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পেনশন কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সরকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক থাকা শিল্পকারখানায় এই স্কিম চালুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিজিএমইএকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পেনশন তহবিল গঠনে কাজ করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি শ্রমিকদের আকৃষ্ট করতে প্রথম দুই বছর সরকারি প্রণোদনা দেয়া এবং পোশাক শ্রমিকদের জন্য অবসরের বয়সসীমা ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই স্কিমে যুক্ত করা ও তা পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
আরেক বিশেষ অতিথি বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান সেলিম বলেন, ভালো মুনাফার হার বিবেচনা করলে এই স্কিম শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেবে। বিজিএমইএ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান। এ সময় বিজিএমইএর সদস্য, পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।