পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ১০ নিরাপত্তাকর্মীসহ নিহত অন্তত ৪৭

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে এ হামলার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) দায়ী করেন। তিনি সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, সংগঠনটি ভারতের সমর্থনপুষ্ট। তবে এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ‘সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলা’য় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ সদস্য প্রাণ হারান। এরপর পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন সশস্ত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা।

শনিবার ভোর ৩টার দিকে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, জাতিগত বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা একাধিক পুলিশ স্টেশনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। বেলুচিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ হামলা চালানো হয়।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে এ হামলার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) দায়ী করেছেন। তিনি সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করেছেন।ইসলামাবাদের দাবি, সংগঠনটি ভারতের সমর্থনপুষ্ট। তবে এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

হামলার সময় কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট ও ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি সামরিক স্থাপনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র জানান, অধিকাংশ হামলা ব্যর্থ করা গেছে।

হামলার একদিন আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে ৭ শতাধিক সশস্ত্র হামলাকারী নিহত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব গোষ্ঠী ও পাকিস্তান তালেবান হামলা জোরদার করেছে।

আরও