চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে আবারো অবৈধভাবে বালি উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন রাতে ড্রেজার নামিয়ে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ও প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মেঘনা নদী-তীরবর্তী দশানী, ষাটনল, নাসিরাকান্দি ও বোরোচর এলাকায় প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন রাতভর এসব ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে বালি তোলা হয়। তাদের অভিযোগ, মেঘনা নদীর বুকে থাকা সাতটি চর থেকে এভাবে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে। এতে নদীতীরের ফসলি জমি ও বসতভিটা ক্রমেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
দশানী গ্রামের কৃষক আবদুল হালিম বলেন, ‘দিন-রাত মেশিন বসিয়ে বালি তোলা হচ্ছে। এতে নদীর পাড় ধসে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।’ অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রশাসনকে জানালে কিছুদিন বালি উত্তোলন বন্ধ থাকে। পরে আবারো শুরু হয়। এভাবে নিয়মিত বালি উত্তোলন চলতে থাকলে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নাসিরাকান্দি, বোরোচর, চরওয়েস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় অবৈধ বালি উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয় বালি উত্তোলন। এভাবে নিয়মিত বালি উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন বাড়ছে, ঝুঁকিতে পড়ছে নদী-তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা। তাই প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্ল্যাহ বলেন, ‘সরকারি সম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ বালি উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে রাস্তা, কৃষিজমি ও পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনা করে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত নদীতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে মতলব উত্তরে বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এর আগে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় হতাহত ছাড়াও বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে অবৈধ বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।