বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামে এ আদেশ জারি থাকবে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হামলা, ভাংচুর ও ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকালে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামের লোকজন। এ ঘটনায় কালাম তালুকদার (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্যদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়।
প্রশাসন সূত্র জানায়, দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় শৃঙ্খলাভঙ্গের আশঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়ন ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এ সময় ওই এলাকার ২০০ গজ সীমানার মধ্যে সব প্রকার বেআইনি সমাবেশ, স্লোগান, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, মাইক্রোফোন ব্যবহার, অননুমোদিত মাইকিং, ঢাকঢোল পিটানো, মোটরসাইকেল চালানো, গোলযোগ সৃষ্টি, লাঠিসোঁটা, অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পরিবহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের প্রায় ১০-১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে দুই উপজেলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছে।
এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাইলাতুল হোসেন জানান, দুই উপজেলার গ্রামবাসী মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অনির্দিষ্টকাল ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।