ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশের চেষ্টা ও দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। নাহলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রেটা’ (পিএনজি) বা ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ (অব.)-এর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তিনি সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের আচরণ সামরিক বাহিনীর মনোবল, মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার লাইসেন্স দেয় না। ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়, বরং এটি একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এলাকা।
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের এ সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ওই প্রার্থী যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ বন্ধের অঙ্গীকার না করেন, তবে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রেটা’ (পিএনজি) ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের আইন, সামরিক বাহিনীর মর্যাদা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সংগঠনটি কোনো আপস করবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে সেনা সদস্যদের সঙ্গে তর্কের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় দুপুরে ডা. খালিদুজ্জামান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ও ‘নিষ্পত্তি হওয়া ইস্যু’ বলে দাবি করেছিলেন। তবে তার সেই দুঃখ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ কঠোর বিবৃতি ও আলটিমেটামি এসেছে।