বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বগুড়ায় চলতি বছর সরিষা চাষের জমিও বেড়েছে। এবার ৫৩ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে সঙ্গে বাড়বে মধু আহরণের পরিমাণ। এরই মধ্যে সদর উপজেলা, কাহালু, দুপচাঁচিয়া, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও গাবতলীর বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে সরিষা খেত থেকে বগুড়ায় প্রায় ৩০ হাজার লিটার মধু আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম, শেরপুর, সারিয়াকান্দি কাহালু, দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণে নেমেছেন পেশাদার মৌয়ালরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার ডেরাহার মাঠে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে এসেছেন দিনাজপুরের মাহাবুবুর রহমান। তিনি জানান, মধু সংগ্রহের জন্য স্টিল ও কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাক্স। এর ওপরের অংশটা কালো রঙের পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো হয়। বাক্সের ভেতরে কাঠের তৈরি ছয়-আট ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো এক ধরনের শিট বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে। এরপর বাক্সগুলো সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। পাশাপাশি বাক্সগুলোর ভেতরে দেয়া হয় রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি। রানি মৌমাছির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন থেকে চার হাজারের মতো পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। বাক্সগুলো মৌমাছিতে ভরে গেলে সরিষা খেতের আশপাশের স্থানে সারিবদ্ধভাবে রেখে দেয়া হয়। এরপর সেসব বাক্স থেকে সরিষা খেতে ঘুরতে থাকে মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে। পরে সেটি সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হয়। ২০০টি বাক্স বসানো হলে প্রতি সপ্তাহে ২০০ লিটার মধু আহরণ করা যাবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় এবার ৫৩ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর সরিষা চাষের জমি ছিল ৩৭ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। সেখানে জমি চাষ হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে ৮ হাজার ১৬১ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। এ বছর বগুড়ায় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ১১২ টন। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতলুবর রহমান জানান, বগুড়ায় সরিষা চাষের জমি বেড়ে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া যাবে। জেলার চাষীরা সরিষা চাষে সবসময় সফল হয়েছেন। সরিষার সময়ে প্রতি বছর মধু আহরণ করা হয়। গত বছর ২০ হাজার লিটারের বেশি মধু আহরণ করা হয়েছে। চলতি বছর ৩০ হাজার লিটার মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’