বৈশ্বিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার বিষয় তুলে ধরে আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা ড. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা আধুনিক প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের রফতানিনির্ভর বাণিজ্য নীতির অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের রফতানি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রেমিট্যান্স। এছাড়া মৌলিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার ওপর যথার্থ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা দরকার।’
গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত পঞ্চম বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিটের দ্বিতীয় দিন ‘সুষ্ঠু কর্মসংস্থান ও প্রগতি: অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ’ শীর্ষক একটি পাবলিক লেকচারে অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার (ইএসসি) আয়োজিত এ সম্মেলনের গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে রয়েছে বণিক বার্তা।
ড. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে শিল্প খাতের অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিচের দিকে নামছে। শিল্প খাতে শুধু ৮৪ হাজার ও আরএমজি (তৈরি পোশাক) খাতে ১ লাখ ৪৬ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্প খাতে বেসরকারি চাকরি খাতগুলো অনেকটা জায়গা দখল করলেও এসব খাত থেকে যে পরিমাণ অর্থ আসে তা খুবই অপ্রতুল। এছাড়া মহিলা শ্রমবাজার, বিশেষত প্রান্তিক অঞ্চলের মহিলাদের অংশগ্রহণ হার ক্রমহ্রাসমান।’
তার মতে, প্রান্তিক জনগণের তুলনামূলক স্বল্প সুযোগ-সুবিধা, শ্রমিকদের বেতন হ্রাস বেকারত্বের অন্যতম কারণ।
পঞ্চম বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিটের দ্বিতীয় দিন আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ‘তরুণদের চোখে আগামীর শ্রমবাজার’ শীর্ষক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। ইএসসির চিরায়ত এ অনুশীলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার নিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত উপস্থাপন করেন এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে অভিমত প্রকাশ করেন। এছাড়া পাঠ চক্রে শ্রমবাজার বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক ও প্রতিকূলতা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
বেলা ২টায় ‘চাকরি এবং সামাজিক সুরক্ষা রূপান্তরিতকরণে গ্লোবাল অ্যাক্সেলারেটর: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক ড. সায়েমা হক বিদিশার সভাপতিত্বে অংশগ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সাইফ মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম, কর্মী শিক্ষার জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটির (এনসিসিডব্লিউই) চেয়ারম্যান ও জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেজবাহউদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার।
এতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বেকারত্ব, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, যুব বেকারত্ব, লিঙ্গবৈষম্য সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। কর্মশক্তিতে বিশেষ করে শহুরে এলাকায় নারীর কম কর্মসংস্থান, মানসম্পন্ন কাজের অভাব এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যবধানের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।