আগামী ১০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর চার ভাগের তিন ভাগ পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আগামী দশকে এ অঞ্চলের মানুষ ঘন ঘন তাপপ্রবাহ, বন্যার মত দুর্যোগের মুখোমুখি হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ সিদ্ধার্থ শর্মা।
প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ১৮০ কোটি মানুষ চরম তাপপ্রভাবের (হিটওয়েভ) শিকার হবে। যা এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৮৯ শতাংশ। এছাড়া ৪৬ কোটি মানুষ তীব্র বন্যার শিকার হবে। যা মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ। ফলে ক্ষক্তিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি। বাসস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন বহু মানুষ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৯ সাল নাগাদ অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। এ অঞ্চলের দরিদ্র ও কৃষিপ্রধান পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ শতাংশ পরিবার খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। আর দুর্যোগের আগাম সর্তকবার্তা পেলে ৯০ শতাংশ পরিবার ক্ষতি কমাতে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ২৫০টি উপকূলীয় গ্রামে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি এবং অপরিহার্য উপাদান জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার অপর্যাপ্ত দুর্যোগ-প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও ৫৬ শতাংশ অভিযোজনের জন্য সীমিত আর্থিক সম্পদকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর প্রভাব কেবল পরিবেশগত নয় বরং গভীরভাবে মানবিক, কারণ দরিদ্র ও কৃষিজীবী পরিবারগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের গত ৫ বছরে কমপক্ষে ১টি আবহাওয়াজনিত শকের অভিজ্ঞতা হয়েছে। বার্ষিক গড় ক্ষতি, প্রতিষ্ঠানের মোট আয়ের ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দুর্বল। ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে রেকর্ডভিত্তিক পরিকল্পনা নেই।