রোপণ করা এসব চারাগাছের বেশির ভাগই বন্যপ্রাণী ও পাখির খাদ্যোপযোগী এবং দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির উদ্ভিদ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাউখালী উপজেলার কমলপতি ইউনিয়নের খাসখালী রেঞ্জের অধীন গোদার পাড় এলাকায় এ বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। যে ১০ একর জমিতে এ বন সৃজন করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের জবরদখলে ছিল। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তায় ওই সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার করে এ সবুজায়নের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ।
নতুন সৃজিত এ বনে ঔষধি ও বন্যপ্রাণীর খাদ্য জোগাতে সক্ষম এমন ৪০টি দেশীয় ও স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম, উড়িআম, বুদ্ধ নারিকেল, তমাল, বৈলাম, মালিআম, চালমুগড়া, উদাল, গর্জন, চালতা, বহেরা, গোদা, বিলাতি গাব, সিভিট, তেলশুর, আমলকী, হরীতকী, কাঠবাদাম, গোলাপজাম, কালো জাম, খুদি জাম, ঢাকি জাম, ছাতিয়ান, কদম, জারুল, সোনালু, বাঁশপাতা, চাম্পাফুল, চাপালিশ, কাঁঠাল, টেউয়া, পলাশ, বট, পাকুড়, যজ্ঞডুমুর, রসকাউ ও গুদগুড়িয়া প্রভৃতি। রোপণ করা এসব উদ্ভিদের অনেক প্রজাতিই এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের লাল তালিকায় (বিলুপ্তপ্রায়) স্থান পেয়েছে।
বন কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় ও নেটিভ প্রজাতির বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। বন্যপ্রাণীর খাদ্য ও আবাসযোগ্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান জানান, জবরদখলমুক্ত হওয়া এ জমিতে বিপুল প্রজাতির উদ্ভিদের বৈচিত্র্য তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গাছগুলো বড় হলে বনভূমিটি পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিবেশবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা ও শিক্ষা নিতে পারবেন। আগামীতে অন্যান্য পরিত্যক্ত ও জবরদখলকৃত বনভূমিও পর্যায়ক্রমে বনায়নের আওতায় আনা হবে।