ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী শনিবার সকালেই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান।
এর আগে বুধবার বিকেলে সংঘর্ষের জেরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের এক শিক্ষার্থী জ্বর ও পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যান। পরে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা ওষুধ না পেয়ে তিনি পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে ডাক্তারের ওয়েটিং রুমে অবস্থান নেন। অপরদিকে জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানান, গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদের ডিন অধ্যাপক নাদিম মোহাম্মদ, দুজন সহকারী প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুজন ডেপুটি ডিরেক্টর, ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর এবং রমনা বিভাগের উপকমিশনার। আগামী শনিবার সকালের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, বৈঠকের পর জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ এবং মাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ঘটল। তিনি একে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বলেন, চিকিৎসকেরা সারা দেশেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা চিকিৎসাসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি রোগীদেরও শালীন ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া না হলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর কর্মসূচিতে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।