মৌলভীবাজারে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণ

কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও শেষ হয়নি মৌলভীবাজারে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণকাজ।

কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও শেষ হয়নি মৌলভীবাজারে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন বছর বেশি পার হলেও আংশিক নির্মাণ শেষে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তাগাদা দিলেও কাজ হচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্মাণকাজ শেষ না করায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ভবন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, নষ্ট হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান আসবাব। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার অজুহাতে বিভিন্ন প্রকল্পের ভবন নির্মাণকাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে, বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে।

মৌলভীবাজার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ানোর অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ ফেলে রেখেছে। যারা কাজ করবে না তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে আরো পাঁচ থেকে সাত বছর অতিক্রম হয়েছে জেলায় এমন অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় রয়েছে সাধুহাটি উচ্চ বিদ্যালয়, হাবিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, ফতেহপুর মাদ্রাসা, উত্তর মুলাইম মল্লিক সরাই আলিম মাদ্রাসা ও পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া জুড়ী উপজেলার নয়াগ্রাম শিমুলতলা দাখিল মাদ্রাসা, রাজনগর উপজেলার রাজনগর দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা, কুলাউড়ার হাসিমপুর আহমেদিয়া মাদ্রাসা এবং কমলগঞ্জ উপজেলার আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ শেষ হয়নি। তবে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে পারেনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি ভবন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৩ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কভিডের সময় অনেক ভবন নির্মাণ বন্ধ রাখা হয়। পরে রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। এজন্য আর কাজ করা হয়নি। আবার কিছু প্রকল্পের শুরুতে ভবনের পাইলিংয়ের কাজ পেয়েছে একজন, কিন্তু ভবন নির্মাণকাজ পেয়েছে আরেকজন। পাইলিংয়ের কাজ দেরি হওয়ায় ভবন নির্মাণও দেরি হয়েছে।’

জেলায় নির্মাণকাজ মাঝপথে থেমে আছে—এমন ভবনের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা ভবন অন্তত ১০টি। মাধ্যমিক স্কুল ভবন ১৫-২০টি হবে। এখন অনেকে নতুন করে কাজ শুরু করেছে।’

সরজমিন কমলগঞ্জ এবং সদর উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর এলাকায় আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলার নতুন ভবনের কাজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে পড়ে আছে। ভবন নির্মাণ শেষ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দপ্তরে জানালেও কাজ হয়নি। শ্রেণীকক্ষ সংকটে স্কুলের পুরনো টিনশেড ঘরে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৬০ জন। শিক্ষক-কর্মচারী ২০ জন। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৮ সালে সরকারের তিন হাজার নতুন স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি চারতলার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ভবনের কাজ শেষ করার জন্য ১৮ মাস সময় নির্ধারণ করে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভবনের দোতলার ছাদ ঢালাইয়ের পর থেকে কাজ বন্ধ করে রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষকরা জানান, কয়েক বছর ধরে নতুন ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে গাদাগাদি করে ক্লাস করানো হচ্ছে। জীর্ণ ঘরে বৃষ্টি হলে পানি পড়ে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক মো. আবদুল আহাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একই সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এটি হয়নি। ভবন নির্মাণের আগেই প্রায় ৩০ লাখ টাকার আসবাব এসেছে। এগুলো রাখার জায়গা নেই। কোনোভাবে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। এতে মালপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও