ট্রাক উল্টে নিহতদের ৯ জনই রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের

ঈদের পর বিয়ের কথা ছিল তারেকের

নতুন ইটের বাড়ি তৈরি শেষ হয়েছে মাত্র। কথা ছিল ঈদুল আজহার পর বিয়ে করবেন ২১ বছরের তরুণ তারেক রহমান।

কিন্তু গতকাল টাঙ্গাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা সবকিছু ওলটপালট করে দিল। মুহূর্তেই নিভে গেল তারেকের জীবনপ্রদীপ, আর খুশির বাড়ি রূপ নিল শোকের মাতমে—লাশ হয়ে ফিরল স্বপ্নবাজ এ তরুণ।

ভাতিজা তারেকের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফুফু খাদিজা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরই তারেকের বিয়ের কথা চলছিল। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেটার। সেই ছেলে আজ লাশ হয়ে ফিরবে।’

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে নয় জনেরই বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তারা নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। এতে পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ স্বামী, আবার কেউ সন্তান।

স্থানীয়রা বলছেন, নিহতরা মূলত বিভিন্ন এলাকা থেকে চুল ও ভাঙারি মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। কম খরচে বাড়ি ফিরতে তারা ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে রড বোঝাই একটি ট্রাকে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

গ্রামের বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু এ গ্রামে আগে কখনো হয়নি। তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। আগে মাছ ধরে জীবিকা চললেও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে নোয়াখালীতে ফেরিওয়ালার কাজ করতে গিয়েছিলেন। দ্রুত লাশগুলো গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাই।’

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নয়জন মান্দা উপজেলার বাসিন্দা—এমনটা আমরা জেনেছি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সেখানকার থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’

আরও