সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি: ড. বদিউল আলম মজুমদার

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলে কালো টাকার প্রভাব প্রবল। একই সঙ্গে পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও বিপুল অর্থ দিতে না পারায় নেতাকর্মীরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, এতে রাজনৈতিক দলের ভেতরের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দেশে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ ভয়াবহভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগরীর হোটেল ওয়ারিশানে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলে কালো টাকার প্রভাব প্রবল। একই সঙ্গে পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও বিপুল অর্থ দিতে না পারায় নেতাকর্মীরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, এতে রাজনৈতিক দলের ভেতরের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। অতীতে কমিশনের সদস্যরা নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে শাসক দলের পক্ষ নিয়েছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যেই বর্তমান সংবিধান রচনা করা হয়েছিল। এর ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। সে ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এরই পথ ধরে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির পথ তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ড. বদিউল আলম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা অংশ নেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

আরও