সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি পাঁচ মাসের ভ্রুণ রয়েছে। মরদেহগুলো ফুলে পচতে শুরু করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ধারণা করছে, দুই-একদিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো থাকায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
গত শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজি হযরত আলীর চারতলা ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২)। তিনি পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। আর নারী হলেন নাজমা আক্তার (৩৩)। তিনি একই উপজেলার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ২০২২ সালে তারা বিয়ে করেন। তারা আশুলিয়ায় ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন তারা। কক্ষটির দরজা-জানালা প্রায় সময়ই বন্ধ থাকত। গত শুক্রবার রাতে ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি খুলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
পরে সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ সময় ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় একটি পাঁচ মাসের ভ্রুণও উদ্ধার করা হয়। ধারণা করছি, ঘটনার সময় বা আগে পরে যেকোনো সময় ভিকটিমের শরীর থেকে হয়তো ভ্রুণ ডেলিভারি হয়ে গেছে। সেটা পাঁচ মাসের। আপাতত ঘটনাস্থলের দৃশ্যে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এটা একটা হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নিদর্শন ও আলামত পর্যালোচনা করে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’