বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, গত সরকারের আমলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতা দেখিয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক বন্ধ এবং সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসাহিত করতেই এই ভূমিকা রাখা হচ্ছে। সাংবিধানিক শাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় সুশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
মার্কিন ও বাংলাদেশের সংবিধানের মিল তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের সংবিধান কয়েকটি মৌলিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু বিষয় মার্কিন সংবিধান থেকে নেয়া হয়েছে। ১৮০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রতিষ্ঠা করে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও একইভাবে প্রযোজ্য হয়।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন বৈশ্বিক নীতি ও তত্ত্ব গ্রহণ করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব পর্যালোচনা করা হয়েছিল।
সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আইন বিশেষজ্ঞরা নন, দেশের চায়ের দোকানেও মানুষ সংবিধান, এর সংশোধনী ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের অধিকার ও নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মার্কিন সরকার যেকোনো দল থেকেই আসুক না কেন, তাদের কিছু মৌলিক নীতি থাকে। বাংলাদেশে মানুষ যখন কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশের জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করাই মূল উদ্দেশ্য।
বিচার প্রক্রিয়ার তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো বিচারালয় এই অপরাধগুলো সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে একমত হবে।