যশোর পৌরসভার অধীনে সড়ক রয়েছে ২৯৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশই চলাচলের অনুপযোগী। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও আবার সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি পৌরসভার বাসিন্দাদের। এসব সড়ক সংস্কারের দাবিতে কয়েক মাস আগে পৌর ভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সব ভাঙা সড়ক সংস্কার করা হবে। তখন মানুষের আর ভোগান্তি থাকবে না।
শহরের শাহ আব্দুল করিম সড়কঘেঁষেই সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ। শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। তাদের ভাষ্য, সড়কে রূপকথার মোড় থেকে খড়কি কবরস্থান এবং খড়কি মোড় থেকে পীরবাড়ী পর্যন্ত অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকার বেহাল দশা। কার্পেটিং উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাইপপট্টি থেকে ফায়ার সার্ভিসে যাওয়ার সড়কটিতেও সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এটি এখন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু ওই দুটি সড়ক নয়, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ৮০টি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় সড়কে পানি জমে থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য পৌর এলাকায় ২৯৯ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বিটুমিনের কার্পেটিং ১৮৮ কিলোমিটার, সিমেন্ট-বালির ঢালাই সড়ক ৩০ কিলোমিটার। ইট বিছানো সড়ক রয়েছে ৫১ কিলোমিটার। এছাড়া মাটির রাস্তা আছে ৩০ কিলোমিটার।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়কারী মাসুদুজ্জামান মিঠু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যশোর পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। সড়কের সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন নালার ভালো ব্যবস্থা নেই। জলাবদ্ধতা শহরের আরেকটি বড় সমস্যা। বৃষ্টির পানি জমে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নাগরিক সুবিধা থেকেও শহরবাসী বঞ্চিত। গত তিন-চার বছর ধরে পৌরসভার কোনো সড়কে কাজ করা হয়নি।’
খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়কে দেখা গেছে, সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের প্রধান ফটকের (দক্ষিণ গেট) পাশে খড়কি মোড়ে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। জুতা হাতে পথচারীরা পার হচ্ছেন। পানি জমে থাকায় সড়কে বিটুমিনের আস্তরণ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এমএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা সোহেল হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে কোনো সংস্কার করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।’
শহরের বেজপাড়া-চোপদারপাড়া সড়কটি বেজপাড়া তালতলা মোড় থেকে শুরু হয়ে সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের সামনে রেল সড়ক, শংকরপুর রেললাইন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। ওই সড়কে বিটুমিনের আস্তরণ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আনসার-ভিডিপি ক্যাম্প, যশোর কলেজ ও যশোর মেডিকেল কলেজে যাতায়াতের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ চোপদারপাড়া সড়কে পয়ঃনিষ্কাশনে নালার ভালো ব্যবস্থা নেই। পথচারীদের অভিযোগ, দুই যুগের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
শহরের বেজপাড়া-চোপদারপাড়া সড়কটির তালতলা মোড় থেকে আনসার-ভিডিপি ক্যাম্প পর্যন্ত অত্যন্ত নাজুক। কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় হাঁটুপানি আর শুষ্ক মৌসুমে উড়ে ধুলাবালি। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে চার মাস আগে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন। গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি পৌরসভার মেয়রের কাছেও দেয়া হয়েছে কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বেজপাড়ার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শহরে প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক এটি। তার পরও সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’
যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেসব সড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, সেসব স্থানে সংস্কারকাজ শুরুর জন্য আমরা ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিয়েছি। ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করা হবে। এছাড়া শিগগিরই নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। তখন পৌর এলাকার সড়কের চেহারা বদলে যাবে।’