বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ঢাকা-১১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচন করছেন নাহিদ ইসলাম। তিন নেতার মাজার ও শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে তার দল এনসিপি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন নির্বাচন ও গণভোটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে দেশ। এ প্রেক্ষাপটে আজ (গতকাল) থেকে এনসিপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো।’
নির্বাচনী প্রচারণার সূচনাস্থল হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে বেছে নেয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান আন্দোলনসহ বাংলার মানুষের সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সূচনাও এখান থেকেই হয়েছিল। তাই শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মরণে এ যাত্রা শুরু করা হয়েছে। শেরেবাংলা জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।’
ওসমান হাদির কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে শহীদদের স্মরণেই এনসিপির এ যাত্রা। শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এনসিপির অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকারবঞ্চিত থাকার পর আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিয়ে সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’ একই সঙ্গে ১০ দলীয় ঐক্যজোট ও এনসিপির প্রার্থীদের শাপলা কলি প্রতীকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ঢাকা-৮ এলাকায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।