আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতাকে ভাগ করা সমৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে। সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের এসডিজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে সাহায্য করে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে সরকার প্রধান।

করোনা মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পটভূমিতে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।একইসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ নেয়ারও তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আজ সোমবার জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ৭৮তম অধিবেশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে এবং ‘এসক্যাপ’-এর ৭৫তম বার্ষিকীতে অধিবেশনটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এ অধিবেশন চলবে আগামী ২৭ মে পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবে জ্ঞান ও উদ্ভাবনে সহযোগিতার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোতে পর্যাপ্ত তহবিল গঠনের পরামর্শ দেন। এছাড়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বৃদ্ধির জন্য আইসিটি’র প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব যখন কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রুশ-ইউক্রেনীয় সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা এসডিজি-১ ও ২ এর মূল প্রতিপাদ্য।

করোনায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মহামারী মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে তার সরকার জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ মহামারিকালীন নেতিবাচক বা নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বাংলাদেশ এ সময় একটি প্রশংসনীয় প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতাকে ভাগ করা সমৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে। সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের এসডিজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে সাহায্য করে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে সরকার প্রধান।


আরও