ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখ চার হাজার ৬৬ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেন।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, মোতায়েন করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ১০ হাজার সেনাবাহিনীর সদস্য, চার হাজার ১২৩ জন বিজিবি সদস্য, ১৩ হাজার ৭৯৬ জন রেঞ্জ পুলিশ, দুই হাজার ৪০৫ জন রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি), এক হাজার ছয়জন র্যাব সদস্য ও ৭২ হাজার ৭৩৬ জন আনসার সদস্য।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন রয়েছে। আর ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৫০৪টি। প্রতিটি আসনে গড়ে দুই হাজার ৬৬৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. বজলুর রশীদ জানান, রাজশাহী বিভাগে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। ভোটগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে বিভাগের ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মোট দুই হাজার ৩১৮টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে রেঞ্জ পুলিশ উদ্ধার করেছে ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র। এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে চার হাজার ৫৯৪টি বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হয়েছে।
সহিংসতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আগের তুলনায় আরো জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীপথসহ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোয় নৌ পুলিশ, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বুধবার সকাল থেকেই রাজশাহী-২ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের মাধ্যমে নিজ নিজ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।