মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১১ যাত্রী নিয়ে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় দুবাইপ্রবাসী স্বামীকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে মমতাজ বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর বৌবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মমতাজ বেগম দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ লিটন মিয়ার স্ত্রী।
উদ্ধারকাজে স্থানীয় মানুষ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একযোগে কাজ করছেন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই শিশুসহ ১১ যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছিল। কুসুমপুর বৌবাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মমতাজ বেগমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা ১০ জনকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতাজ বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে
আহতদের মধ্যে চালকসহ পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত দুই শিশু তোহা (১১) ও ফাতেমা (৯) এবং অহনাকে (১৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকায় পাঠানো আহতরা হলেন আলেয়া বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৪৫), রাজিয়া আক্তার (৩৫), উষা (১৭) ও হাসান (২৭)। সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মেহেদী হাসান জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিহত নারী ও আহতদের সবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী এলাকায়।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের বেপরোয়া গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে অন্য যানবাহন অতিক্রমের চেষ্টার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়। মাইক্রোবাসে থাকা ১১ জনের মধ্যে একজন নিহত এবং ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।