জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া গ্রামে কূপ খনন করে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস কূপ থেকে ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট চাপে গ্যাস বের হচ্ছে। ১ হাজার ৪৪৪ মিটার মাটির নিচ থেকে এ গ্যাস বের হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা প্রাথমিক পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে কী পরিমাণ গ্যাস আছে তা জানা যাবে বলে জানিয়েছেন কূপ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আজ রোববার (১ জুন) দুপুরে জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক পরীক্ষায় এই গ্যাস মিলেছে।
মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত কূপটির ১ হাজার ৪৪১ মিটার গভীর থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। ওই স্তরের ওপরে আরো একটি স্তর রয়েছে; সেখানেও গ্যাস রয়েছে। এছাড়াও তেল বা কোনো পদার্থ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা শেষে জানা যাবে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ‘জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ’ খননের কাজ শুরু হয়। দুই হাজার ৬০০ মিটার গভীরে তিনটি স্তরে ডিএসটির (ড্রিল স্টেম স্টেট) মাধ্যমে সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয় ১০ মে। শনিবার রাতে অগ্নি প্রজ্বলনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কূপটিতে ৪০০ বিসিএফ গ্যাস রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাওয়া গেলে এ কূপ থেকে প্রতিদিন ১০ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া গ্রামে ১৯৮৪ সালে সংগৃহীত সাইসমিক উপাত্ত থেকে সর্বপ্রথম গ্যাস থাকার উৎস থেকে ধারণা পাওয়া যায়। পরে ২০১৪ সালে ওই এলাকায় দ্বি-মাত্রিক সাইসমিক জরিপ এবং ২০১৫ সালে ক্লোজ-গ্রিড সাইসমিক সার্ভে সম্পন্ন করা হয়। ২০১৭ সালে আজারবাইজানের গ্যাস অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান সকার কূপ খননের কাজ পেলেও একপর্যায়ে কাজ শেষ না করে প্রতিষ্ঠানটি চলে যায়। সাত বছর পর গত ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ নামে কূপটির খনন কাজ শুরু করে বাপেক্স।