শীতের তীব্রতার সঙ্গে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। দুই মাসে (১৫ নভেম্বর-১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত) বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১২ হাজার ২০৯ জন। এছাড়া শ্বাসতন্ত্রের (এআরআই) রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩২৫ জন। গত বছর এ সময়ে রংপুর বিভাগে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৪৫০ এবং শ্বাসতন্ত্রে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৭৩।
রংপুর মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। রোববার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আবদুল জলিল (৫৩) মারা যান। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২৯২ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৭৫ জন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার শীতে রংপুর জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে ৫০৭ জন। এছাড়াও শ্বাসতন্ত্র রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩০। পঞ্চগড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৯ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ২৪৯ জন। ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১১১ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩১৬।
এছাড়া দিনাজপুর জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬১১ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭৪। নীলফামারী জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৪৫ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৫। লালমনিরহাটে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮২ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৩৪২ জন। কুড়িগ্রামে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪১ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১০৭ জন। গাইবান্ধায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে ২৯৭ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এবিএম আবু হানিফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কভিড-১৯ আমাদের যেমন ক্ষতি করেছে, তেমনি চিকিৎসা ব্যবস্থার উপকারও করেছে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা আছে। তাই শ্বাসকষ্টে আর অক্সিজেনের সমস্যা হয় না। শীতের তিন মাস সাধারণত বয়স্ক ও শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। যারা আগে থেকে থেকে হাঁপানি এবং ব্রঙ্কাইটিসে ভুগছে শীতকালে তাদের একটু বেশি যত্ন নিতে হয়।’ শীতে শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই এ সময় শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়ার জন্য অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এবিএম আবু হানিফ।
এদিকে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত অনুভূত হলেও মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রংপুর অঞ্চলে ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয়। এ সময়ে মৃদু, মাঝারি ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেয়। এর মধ্যে জানুয়ারিতে সাধারণত চার-পাঁচদিন একনাগাড়ে সূর্যের দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে।
এ বিষয়ে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনেক দিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার পরিমাণ বেশি হওয়ায় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আরো দুই-তিনদিন বিদ্যমান থাকতে পারে।’