এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয়ের ৪০-৪৬ ভাগই হয় জ্বালানি বা জেট ফুয়েল ক্রয় বাবদ। সাম্প্রতিক সময়ে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে জেট ফুয়েলের দাম। সর্বশেষ গত মাসে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের জন্য জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যদিও আন্তর্জাতিক গন্তব্যের জন্য লিটারে ৯ সেন্ট কমিয়ে করা হয়েছে ১ ডলার বা ১০২ টাকা। এ অবস্থায় পরিচালন ব্যয় কমিয়ে কার্যক্রমে টিকে থাকতে সরাসরি জেট ফুয়েল আমদানির অনুমতি চায় দেশের এয়ারলাইনসগুলো।
জানা গেছে, অতি মূল্যায়িত জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় এবং যৌক্তিক সমাধান চেয়ে গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এওএবি)। এ সময় বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে একটি চিঠিও দেয় এওএবি। এওএবির মহাসচিব ও নভোএয়ার লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান এবং এওএবির সহসভাপতি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ্ আল মামুন এ চিঠি দেন। এওএবির চিঠিটি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।
চিঠিতে জেট ফুয়েল নিয়ে সমস্যা সমাধানে এওএবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, দেশীয় প্রাইভেট সেক্টর এয়ারলাইনস এবং হেলিকপ্টার অপারেটরদের জন্য সরাসরি পারটেক্স পেট্রোলিয়াম থেকে জ্বালানি ক্রয়ের অনুমোদন, প্রয়োজনে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বিদেশ থেকে জেট ফুয়েল আমদানির অনুমোদন প্রদান, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা।
চিঠির একটি অংশে বলা হয়েছে, এয়ারলাইনস পরিচালনা ব্যয়ের ৪০-৪৬ ভাগই জ্বালানি খরচের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাংলাদেশে অতিমূল্যায়িত জেট ফুয়েলের কারণে এভিয়েশন খাত অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত। এভিয়েশন খাত দীর্ঘ করোনাকালীন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি এ খাতে উপর্যুপরি আঘাত করেছে। ফলে এয়ারলাইনসগুলোর দেউলিয়া ঘোষণা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেট ফুয়েল বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য বাংলাদেশে প্রায়ই আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি মূল্যে ক্রয় করতে হয়। ফলে জিএমজি, ইউনাইটেড ও রিজেন্টের মতো সম্ভাবনাময় এয়ারলাইনসগুলো দেউলিয়া হয়েছে। জেট ফুয়েল বিক্রির একক কর্তৃত্ব পদ্মা অয়েল কোম্পানির থাকায় এয়ারলাইনসগুলো প্রতিযোগিতামূলক দামে জেট ফুয়েল ক্রয়ের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
অন্যদিকে একই জ্বালানি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানির চেয়ে ১৫-২৫ শতাংশ বেশি মূল্যে ক্রয় করতে হয়। অতিসম্প্রতি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জ্বালানি মূল্য ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানি মূল্য ৯ সেন্ট (প্রায় ১০ টাকা) কমিয়ে ১ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অভূতপূর্ব।
এ প্রসঙ্গে এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল ও বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে। এতে বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো লাভবান হলেও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো। কারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য যেখানে মাসে ২০ লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়, সেখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রয়োজন হয় এক লাখ লিটার। জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। মধ্যবিত্তরা তো ফ্লাইটে ওঠা ছেড়েই দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা হিসাব করলে গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ৩০ ভাগ কম প্রবৃদ্ধি, যা আরো কমে যাবে।