নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ সরাসরি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি (ইইসি) বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, ইসিতে অভিযোগ করলে সময় বেশি লাগবে। সেজন্য আচরণবিধি ভঙ্গ হলে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি (ইইসি) বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরাসরি অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন (ইইসি) কমিটির কাছে আপনারা জানান, জানিয়ে আমাদের কপি দেন। আই উইল ফলো ইট। কিন্তু আমাকে যদি বলেন যে আপনি ঘুরে ঘুরে গিয়ে দেখেন, তাহলে এটা আমার প্রতি মিসক্যারেজ অব জাস্টিস হবে।’
ইসি সচিব জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফিং করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে একটি ব্রিফিং দেয়া হয়। এতে রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধান মিলিয়ে ৪১ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি তুলে ধরার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উনারা মূলত যে বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, প্রথাগতভাবে আমরা কী কাজ করছি— এটা আমরা ব্রিফ করেছি। কিন্তু উনাদের কৌতূহল ছিল মূলত সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং কমান্ড স্ট্রাকচার। ভোটের ফল দিতে কতক্ষণ লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘এবার ভোটকেন্দ্রে পুলিশের ২৫ থেকে ৩০ হাজার বডি ওয়র্ন ক্যামেরা থাকবে।’
ভোটের ফল দিতে কত বিলম্ব হতে পারে— এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষকরা জানতে চেয়েছেন, ভোটের রেজাল্ট কতক্ষণে হতে পারে? আমাদের হিসাব মতে, কেন্দ্রের রেজাল্ট গ্রহণের সময়ের মধ্যেই এটা হয়ে যাবে। তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা বা চার ঘণ্টা লাগতে পারে, সেটা নির্ভর করবে কত ভোট পড়ল তার ওপর। কিন্তু প্রবাসীদের ভোটের যে কেন্দ্রগুলো রিটার্নিং অফিসারদের কাছে থাকবে, সেখানে গণনার সময় বেশি লাগবে।’
এর কারণ তুলে ধরে তিনি জানান, দুটি ব্যালট পেপার থাকবে— একটি প্রবাসীদের জন্য এবং একটি দেশের অভ্যন্তরের ভোটারদের জন্য। এই দুই ব্যালট পেপারের ভিন্নতা রয়েছে। প্রবাসীদের জন্য যে ব্যালট পেপার দেয়া হয়েছে, সেটি এ ফোর সাইজের, দুই ভাগে এবং দুই পাশেই ছাপা। কাজেই সিম্বল স্ক্যান করতে হবে।
ইসি সচিব জানান, কোনো আসনে শতাধিক কেন্দ্র থাকলেও পুরো সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের জন্য থাকবে একটি কেন্দ্র। সেখানে সব আসনের পোস্টাল ব্যালট স্ক্যান করে তারপর গণনা করা হবে। যেমন, ফেনী–৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট একটি কেন্দ্রে থাকবে, সে ক্ষেত্রে সময়ও বেশি লাগবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে বলছি, আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টা নিয়ে ৩০০ আসনে ৩০০টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন (বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া) কমিটি আছে। তাদের কাছে বলেন, রিটার্নিং অফিসারের কাছে বলেন, আমাদেরও একটি কপি দিন। আমরা এখান থেকে বিষয়টি ফলোআপ করব।’