রাঙ্গামাটির সাজেক ইউনিয়নে পিতাকে হত্যার দায়ে ছেলেসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন আলোময় চাকমা (৩২) ও সোহেল চাকমা (২২)। এর মধ্যে সোহেল চাকমা ভিকটিম শান্তি লাল চাকমার ছেলে ও আলোময় চাকমা সম্পর্কে ভিকটিমের আপন ভাতিজা। আসামি ও ভিকটিম সবাই বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উত্তর ভাই-বোন ছড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার আদেশে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি ও ভিকটিমের ছেলে সোহেল চাকমা উপস্থিত থাকলেও আরেক আসামি আলোময় চাকমা উপস্থিত ছিলেন না।
মামলায় এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট ভিকটিম শান্তি লাল চাকমা (৫৬) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১ নম্বর আসামি আলোময় চাকমা ও ২ নম্বর আসামি সোহেল চাকমা ঘরে ঢুকে ভিকটিমের গলায় গামছা লাগিয়ে ২০০ গজ দূরে নিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে আসামিরা শান্তি লাল চাকমাকে গলা কেটে হত্যা করেন ও ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে খরস্রোতা গঙ্গারাম নদীতে কাঠসহ বেঁধে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ফেলে দেন।
এ ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা ও ভিকটিম শান্তি লাল চাকমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিনয় শংকর চাকমা সাজেক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ৯ বছর পর দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির প্রসাদেব চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিজ্ঞ আদালত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও উভয়কে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ভিকটিমের ছেলে ও আসামি সোহেল চাকমা উপস্থিত ছিলেন। তবে আরেক আসামি আলোময় চাকমা উপস্থিত ছিল না।