ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৩ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার তারিকুল ইসলাম জীবন বলী। এর আগে ১০৯তম আসরে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন তিনি।
আজ সোমবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে প্রায় ৩০ মিনিটের লড়াই শেষে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শাহাজালাল বলীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন জীবন। খেলা পরিচালনা করেন সাবেক কমিশনার আবদুল মালেকসহ চারজন।
আজ বিকেল ৩টায় লালদীঘি মাঠের পাশে অস্থায়ী মঞ্চে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরের আয়োজন করা হয়। লালদীঘির মাঠের পাশে বিশেষভাবে বালি দিয়ে তৈরি করা হয় বলী খেলার গ্রাউন্ড (টার্ফ)।
এবার বলী খেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০০ বলী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম সেমিফাইনালে মোকাবেলা করেন তরিকুল ইসলাম জীবন ও মমিন। এতে জীবন জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সৃজন চাকমা ও শাহাজালাল বলী মোকাবেলা করেন। এতে জয় পান শাহাজালাল বলী। ফাইনালে শাহাজাহান বলীকে তিন পয়েন্টে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন জীবন বলী। চ্যাম্পিয়নে হিসেবে তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং রানারআপ শাহাজালাল পেয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
চ্যাম্পিয়ন তরিকুল ইসলাম জীবন জানান, এর আগে দুবার ফাইনালে ওঠার পরও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। তবে এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে তিনি খুব খুশী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পিআর) শাহাদাত হুসেইন রাসেল জানান, মেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। সিএমপির দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। মেলা চলাকালীন পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত এলাকা টহল দেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রাম শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার ১৯০৯ সালে বলী খেলার অনুষ্ঠান প্রচলন করেন। ১৩১৬ বাংলা ১২ বৈশাখ (১৯০৯) সালে প্রথম বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় এ বলী খেলা ও মেলার পরিধি ও জনপ্রিয়তা পায়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মেলা কমিটি প্রতি বছর ১২ বৈশাখ বলি খেলার আয়োজন করে। তবে চলতি বছরে প্রথমে মেলা আয়োজন না করতে চাইলেও পরবর্তীতে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।